KeyOfIslam
Welcome To KeyOfIslam.com. KeyOfIslam is the platform to spread love and brotherhood among all people through the light of Prophet Mohammad (peace be upon him), the Final Messanger of Allah. Here you will get informations with precision.
Individual Articles
যৌতুক প্রথা শিক্ষিত সমাজের জন্য অভিশাপ' জানুন
যৌতুক প্রথা শিক্ষিত সমাজের জন্য অভিশাপ' জানুন? ☀️بسم الله الرحمن الرحيم☀️ نحمده تبارك و تعالى و نصلي و نسلم على رسوله الكريم أما بعد- প্রিয় শিক্ষিত মুসলিম সমাজ!! আমরা সবাই অবগত বর্তমান যুগে কন্যা জন্মগ্রহণ করার পর পিতার মাথায় কন্যার বিয়ে দেওয়ার সময় যৌতুকের প্রয়োজনীয়তা, ব্যবস্থা ও আয়োজনের কথা মাথায় চলে আসে। যার মেয়ের এবং কন্যা সন্তান প্রসঙ্গের হাদিস শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে- عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أُخْبِرْتُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ جَاءَتْنِي امْرَأَةٌ وَمَعَهَا ابْنَتَانِ لَهَا فَسَأَلَتْنِي فَلَمْ تَجِدْ عِنْدِي شَيْئًا غَيْرَ تَمْرَةٍ وَاحِدَةٍ فَأَعْطَيْتُهَا إِيَّاهَا فَأَخَذَتْهَا فَقَسَمَتْهَا بَيْنَ ابْنَتَيْهَا وَلَمْ تَأْكُلْ مِنْهَا شَيْئًا ثُمَّ قَالَتْ فَخَرَجَتْ وَابْنَتَاهَا فَدَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ فَحَدَّثْتُهُ حَدِيثَهَا فَقَالَتْ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((مَنْ ابْتُلِيَ مِنْ هَذِهِ الْبَنَاتِ بِشَيْءٍ فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ كُنَّ لَهُ سِتْرًا مِنَّ النَّارِ)) . অর্থাত!! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন এক সময় আমার কাছে এক মহিলা আসল। সেই সময় তার সাথে তার দুটি কন্যা ছিল। সে আমার সমীপ কিছু চাইল। সে মাত্র একটি খেজুর ছাড়া আমার কাছে কিছু পেল না। আমি সেই খেজুরটি তার হাতে দিলাম। সে খেজুরটি নিয়ে তা তার দুই কন্যার মাঝে বণ্টন করে দিল। নিজে তা থেকে কিছু খেল না। তারপর সে এবং তার দুই কন্যা উঠে চলে গেল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসল তার সমীপ আমি ঘটনাটি বর্ণনা করলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে লোক মেয়ে সন্তান প্রতিপালনের পরীক্ষায় পতিত হয় আর তাদের সাথে সে সদাচরণ করে, তাহলে তার জন্য এরা জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। {{ সহীহ মুসলিম হাদিস নং-6862}} {{ সুনানে তিরমিযী হাদিস নং-1915 }} عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ كَانَ لَهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ فَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ وَأَطْعَمَهُنَّ وَسَقَاهُنَّ وَكَسَاهُنَّ مِنْ جِدَتِهِ كُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَّ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ. অর্থাত! উকবা ইবনে আমিরের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি যার তিনটি কন্যা সন্তান থাকল এবং সে তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করল, যথাসাধ্য তাদের পানাহার করাল ও পোশাক-আশাক দিল, তারা কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম থেকে অন্তরাল হবে। {{ সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নং-3800 }} {{ মুসনাদে হুমায়দী হাদিস নং-755 }} {{ মুসনাদে আহমদ হাদিস নং-17403 }} {{ আল-আদাবুল মুফরাদ হাদিস নং-76 }} {{ মুজাম জাবির তাবারানী হাদিস নং-826 }} {{ শুয়াবুল ঈমান বায়হাকী হাদিস নং-8317}} عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَال قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ رَجُلٍ تُدْرِكُ لَهُ ابْنَتَانِ فَيُحْسِنُ إِلَيْهِمَا مَا صَحِبَتَاهُ أَوْ صَحِبَهُمَا إِلَّا أَدْخَلَتَاهُ الْجَنَّةَ قَالَ. অর্থাত!! ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কোন ব্যক্তির দুটি কন্যা সন্তান থাকল এবং সে তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করল যত দিন তারা একত্রে বসবাস করবে, তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। {{ সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নং-3801 }} عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَال: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((مَنْ عَالَ ثَلَاثَ بَنَاتٍ فَأَدَّبَهُنَّ وَزَوَّجَهُنَّ وَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ فَلَهُ الْجَنَّةُ)). অর্থাত!! আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা সন্তানকে লালন-পালন করল, তাদেরকে আদব শিক্ষা দিল, বিয়ে দিল এবং তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করল, তার জন্য জান্নাত রয়েছে। {{সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং-«5149 }} {{ মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা হাদিস নং-25434}} {{ মুসনাদ আহমাদ হাদিস নং-11924 }} عَنْ سُهَيْلٍ بِهَذَا الْإِسْنَادِ بِمَعْنَاهُ قَالَ: ((ثَلَاثُ أَخَوَاتٍ أَوْ ثَلَاثُ بَنَاتٍ أَوْ بِنْتَانِ أَوْ أُخْتَانِ)). অর্থাত!! সুহাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এই সনদে পূর্ববর্তী হাদিসের অর্থানুরূপ বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তিনটি বোন অথবা তিনটি কন্যা অথবা দুটি কন্যা অথবা দুটি বোন হলেও। {{ সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং-«5150 }} عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا يَكُونُ لِأَحَدِكُمْ ثَلَاثُ بَنَاتٍ أَوْ ثَلَاثُ أَخَوَاتٍ فَيُحْسِنُ إِلَيْهِنَّ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ. অর্থাত! আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমাদের মধ্যে যার তিনটি মেয়ে অথবা তিনটি বোন থাকবে, সে তাদের সাথে স্নেহপূর্ণ ব্যবহার করলে জান্নাতে যাবে। {{ সুনানে তিরমিযি হাদিস নং-1912 }} {{ মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা হাদিস-25438 }} {{ আল-আদাবুল মুফরাদ হাদিস নং-79 }} {{ শুয়াবুল ঈমান বায়হাকী হাদিস নং-8309 }} عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ ابْتُلِيَ بِشَيْءٍ مِنَ الْبَنَاتِ فَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ كُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النَّارِ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ. অর্থাত!! আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি তার মেয়ে সন্তানদের জন্য কোনরকম পরীক্ষার সম্মুখীন হয় (বিপদগ্রস্ত হয়), সে তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ধরলে তার জন্য তারা জাহান্নাম হতে আবরণ (প্রতিবন্ধক) হবে। ইমাম তিরমিযি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, এ হাদিসটি হাসান। {{ সুনানে তিরমিযী শরীফ নং-2037 }} উপরোক্ত হাদিস সমূহ হতে স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, কন্যার পিতা হওয়া অর্থাত জান্নাতের চাবি হাতে পাওয়ার সমতুল্য। সমাজ মেয়ের পিতা হয়ে কন্যাকে পেয়ে জান্নাত পাওয়ার আশা নয় বরং যৌতুকের প্রয়োজন ও ব্যবস্থা কিভাবে হবে তা নিয়ে চিন্তায় চিন্তিত। বর্তমান শিক্ষিত সমাজ ভালো ভাবেই অবগত যে, প্রায় প্রতিদিন আমরা পেপার-পত্রিকায় যৌতুকের কারণে বিষপান করে আত্মহত্যা, শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্ম হত্যা করার কথা পড়তে থাকি। যৌতুকের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ করা, যৌতুকের কারণে নতুন বধূকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া, যৌতুকের কারণে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া, যৌতুকের কারণে স্ত্রীর সম্ভ্রম নষ্ট করা, যৌতুকের কারণে স্ত্রীর অভিভাবকদের নানান ভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করার ব্যাপারটা এভাবে সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। তবে আপনার কাছে আমার প্রশ্ন হল, এই যৌতুক অর্থাত মেয়ের বাবার কাছ থেকে বিয়ের সময় যৌতুকের চুক্তি করে নেওয়া কি বৈধ? যুক্তি যুক্ত ? এটা কি মানবিক আচরণ ? এই ব্যবহারকে একজন সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন ব্যক্তি গ্রহণ করতে পারেন? উদাহরণস্বরূপ! আপনি ভাবুন, আপনি যে পোশাকটি নিজের বলেন এবং পরিধান করে থাকেন সেই পোশাকটি কোনো দোকানদারের কাছ থেকে ক্রয় করে সেটা ব্যবহার করেছেন। আপনি কোনোদিন কি ভেবেছেন যে, এই কাপড়টি আপনার ব্যবহারযোগ্য করার জন্য কতগুলো মানুষের মেহনত নিহিত আছে? হয়তো ভাবেননি। আসুন আমি আপনাদের কিছুটা বলি। এটা কাপড় বানানোর জন্য প্রথমত এক প্রকারের পোকার প্রয়োজন হয়, সেই পোকা তুঁতের পাতা খাওয়ানো হয়, পোকা তুঁতের পাতা খেয়ে একটা বাসস্থান তৈরি করে এবং সেই বাসস্থান থেকে মানুষ সুতা ও লালা আলাদা করে নেয়, সুতা আলাদা করার পরেই সেটা বড় ফ্যাক্টরিতে যায়, বড় ফ্যাক্টরিতে সেই সুতা দিয়ে কাপড়ে পরিণত করা হয়। আবার সেই কাপড় সেলাই মেশিনে যাওয়ার পর আপনার প্রয়োজনীয় এবং ব্যবহারযোগ্য পোশাক তৈরি করা হয়। অতঃপর সেটাকে গোডাউনে দিয়ে আসা হয়। গোডাউন থেকে হোলসেল দোকানে চলে আসে, হোলসেল দোকান থেকে আপনার পাশে থাকা দোকানে আসে, যে দোকান থেকে আপনি কাপড় ক্রয় করেছেন। এবার বলুন সেই কাপড় ক্রয় করার সময় যদি আপনি বলেন যে, দোকানদার ভাই! এই কাপড় কি আমার। কারণ আমার জন্যই কাপড়টি তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং আমাকে আমার কাপড় দিয়ে দিন তদুপরি আমাকে হাজার টাকা দিয়ে দিন। তাহলে সেই দোকানদার আপনার সম্মান কিভাবে করবে? সে কি জুতো দিয়ে আপনাকে পিটাবে না? সে কি আপনাকে লাঞ্ছিত করবে না ? সে কি আপনাকে বোকা বা পাগল ভাববে না? সে কি আপনার কলার ধরে ধাক্কা দিয়ে দোকান থেকে বের করে দিবে না? অবশ্যই দিবে। কারণ, যেখানে এই কাপড় আপনার উপযোগী করার জন্য এতগুলো মানুষ ও এতগুলো জিনিসের মেহনত ও খাটুনি নিহিত ছিল সেখানে আপনার উচিত ছিল, বা আপনার সদ্ব্যবহার তখন সেখানে সুস্পষ্ট এবং সঠিক প্রমাণিত হতো যখন আপনি ভদ্র ভাবে কাপড়টা ক্রয় করতেন এবং কাপড়ের উচিত মূল্য প্রদান করে দোকানদারকে থ্যাংক ইউ অথবা শুকরিয়া জানিয়ে আপনি কাপড় বাড়িতে নিয়ে আসতেন এবং তা ব্যবহার করতেন। তদ্রূপ যে মেয়েটিকে আপনি নিজের স্ত্রী বলে দাবি করছেন, সেই মেয়েটি আপনার স্ত্রী হওয়ার যোগ্য এমনিতেই হয়নি। সেই মেয়েটিকে আপনার স্ত্রী হওয়ার উপযোগী ও উপযুক্ত করার জন্য অনেক মানুষের খাটুনি ও মেহনত নিহিত আছে। সেই স্ত্রীকে প্রায় দশ মাস আপনার শাশুড়ি পেটে ধারণ করেছেন, সেই মাসগুলিতে অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন, বাচ্চা ভূমিষ্ঠ করার সময় অনেক ব্যথা বেদনা পেয়েছেন, বাচ্চা ভূমিষ্ঠ করার পর থেকে তাকে লালনপালন এ নানান রকম কষ্ট, ব্যথা ও বেদনা সহ্য করেছেন, আপনার সেই স্ত্রী বাল্যকালে যদি বিছানায় পেশাব করতেন তাহলে পেশাবের জায়গায় আপনার শাশুড়ি ঘুমাতেন আপনার স্ত্রীর যেন কোনো কষ্ট না হয় তার জন্য তাকে শুকনো জায়গায় ঘুমাতে দিতেন। সেই মেয়েটিকে আপনার উপযুক্ত করার জন্য আপনার শ্বশুর আব্বা অনেক মেহনত ও খাটুনি করে টাকা পয়সা ইনকাম করে তাকে ভালো ও সুশিক্ষা দিয়েছেন। তাকে দুনিয়া চলার জন্য যা প্রয়োজন তা তাকে প্রদান করেছেন। রাত্রির ঘুম হারাম করে নিয়মিত খাটুনি করেছেন শুধু আপনার স্ত্রীকে আপনার উপযুক্ত করে তোলার জন্য, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিন দুপুরে কাজ করেছেন শুধু আপনার স্ত্রীকে আপনার উপযুক্ত করার জন্য। অনেক মানুষের সাথে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয়েছেন শুধু আপনার স্ত্রীকে আপনার উপযুক্ত করার জন্য। আপনার ব্যবহারযোগ্য, উপযুক্ত ও উপযোগী করার জন্য আপনার শ্বশুর আব্বাকে অনেক দুঃখ, কষ্ট, মেহনত ও খাটুনি নিহিত ছিল সেখানে আপনার শ্বশুর আব্বা এসমস্ত দুঃখ, কষ্ট, মেহনত ও মজুরি করে আপনার স্ত্রীকে আপনার মত করে আপনার হাতে তুলে দিচ্ছেন সেই সময় যদি আপনি বলেন, শশুর আব্বা আমাকে আপনার কলিজার টুকরা ও আদরের কন্যা দান এবং তদুপরি 10 লাখ, 5 লাখ বা দুই লাখ টাকা দিতে হবে। তাহলে বলুন সেই শশুর আব্বা বা কন্যার বাবার হৃদয়ে কত বড় আগুন জ্বলবে, তার আত্মা কতটা কষ্ট পাবে, তার মন কতটা ভেঙে পড়বে, তার হৃদয় কতটা আপনি ব্যথিত করবেন, এটা একবারও কি আপনি ভেবে দেখেছেন? তাছাড়া এই কাজটি করে আপনি কি সেই ব্যক্তির ন্যায় হয়ে গেলেন না ? যে ব্যক্তি দোকানদারকে গিয়ে বলেছিল যে, আমাকে আমার কাপড় দিন তদুপরি 1000 টাকা দিয়ে দিন। কারণ পোশাকটা আপনার এবং স্ত্রীটা আপনার । পোশাক নেওয়ার সময় যদি টাকা দিতে হয় তাহলে স্ত্রীকেও নেওয়ার সময় আপনাকে টাকা দিতে হবে। পোশাক নেওয়ার সময় যে টাকা দেওয়া হয়, তাকে বলা হয় মূল্য। কিন্তু স্ত্রীটিকে নেওয়ার সময় যে টাকাটা দেওয়া হয়, সেই টাকাকে ইসলাম শরীয়তে বলা হয় 'মহরানা' । এজন্য মহরানা দেওয়া হল আবশ্যিক। আর যদি সেখানে মহরানার দিকে লক্ষ্য না করে আপনি যৌতুকের দিকে দৃষ্টিপাত করেন তাহলে, আপনাকে এ দুনিয়াতে যদিও লাঞ্ছিত না করা হয়, বঞ্চিত না করা হয়, অপমানিত না করা হয় ও আপনার কলার ধরে ধাক্কা না দেওয়া হয়। কিন্তু ইন্তেকাল করার পর অবশ্যই আল্লাহ তাআলা এই কন্যার পিতাকে লাঞ্ছিত করার কারণে এবং তার সমস্ত মেহনত ও খাটুনি ধুলিস্যাৎ করার কারণে, তার সমস্ত মেহনতের উচিত মূল্য না দেওয়ার কারণে অবশ্যই আপনাকে ধাক্কা দিয়ে জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হবে, আপনাকে জাহান্নামে লাঞ্ছিত করা হবে, জান্নাত থেকে বঞ্চিত করা হবে। তাই মরণের সময় আসার পূর্বেই শশুর আব্বার কাছে মাফ চেয়ে নিন এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে বিনয়ের সহিত তওবা করে নিন। আর প্রতিজ্ঞা করুন, না আপনি যৌতুক নিবেন আর না আপনার সন্তানাদি যৌতুকের কোনো চুক্তি করবে। আপনাকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে যে, আমি যৌতুকের কথা মুখেও আনব না, বিনা যৌতুকে চুক্তি করে ছেলের, নিজের ভাইয়ের, নিজের চাচার এবং নিজের বিবাহ করব ও দেব। আর এর উপর আমল করলে সমাজ তখনই সত্যিকার অর্থে আলোর মুখ দেখতে সক্ষম হবে, কন্যা সন্তান অথবা মহিলাদেরকে তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এবং পেপার-পত্রিকায় যে সমস্ত দুর্ঘটনা পড়ে মানুষ ব্যথায় ব্যথিত হয় সে সমস্ত ঘটনা আর ছাপানোর প্রয়োজন পড়বে না। উল্লেখ্য যে, বর্তমান সময়ে যৌতুক প্রথা আরও বেশি হাওয়া দিচ্ছে শিক্ষিত সমাজেই। কারণ যারা যত বেশি শিক্ষিত তারা ততটা বেশি যৌতুক চুক্তি করে অথবা যৌতুক পাওয়ার আশা রাখে। আমার হৃদয় বলে, যদি শিক্ষিত সমাজ এ প্রসঙ্গে সচেতন হয় তাহলে, যৌতুক প্রথা সমাজ থেকে তুলে দিতে আমরা খুব সহজভাবেই সক্ষম হব।। হ্যাঁ! যদি কন্যার পিতা স্বেচ্ছায় সাধ্য মোতাবেক কোনো জিনিস কন্যা অথবা জামাতাকে উপহারস্বরূপ প্রদান করে তাহলে তা গ্রহণ করা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর সুন্নত। কারণ হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহার বিয়েতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু জিনিস প্রদান করেছিলেন যা নিম্নোক্ত হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়। عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ جَهَّزَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاطِمَةَ فِي خَمِيلٍ وَقِرْبَةٍ وَوِسَادَةٍ حَشْوُهَا إِذْخِرٌ অর্থাত! আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে যাহিয দান করেছিলেন- একখানা চাদর। একখানা পানির পাত্র (মশক) আর একখানা বালিশ, যার ভিতরে ছিল ইযখির নামের তৃণ। {{ সুনানে নাসাঈ হাদিস নং-3384 }} {{ সুনানে কুবরা নাসাঈ হাদিস নং-5546 }} {{ মুসনাদে আহমদ হাদিস নং-643}} {{সহীহ ইবনে হিব্বান হাদিস নং-6947 }} {{ মুস্তাদরাক হাকিম হাদিস নং-2755 }} {{ শারহুস সুন্নাহ হাদিস নং-4050 }} {{ আত তারগীব মুনযিরী হাদিস নং-4998 }} (( ইমাম হাকিম রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন, هذا حديث صحيح الإسناد অর্থাত হাদিসটি সহীহ ও বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে)) আল্লাহ তাআলা সকল মুসলিম শিক্ষিত ভাইদের যৌতুক প্রথা বিলুপ্ত করার এবং সমাজকে যৌতুক মুক্ত করার শক্তি প্রদান করুন!! আমীন!! বি-জাহিল সায়্যিদিল মুরসালীন আলাইহিস্ব স্বালাতু ওয়াত তাসলিম। وما توفيقي إلا بالله العلي العظيم و صلى الله على حبيبنا محمد ☀️ মুফতি আমজাদ হুসাইন সিমনানী প্রেসিডেন্ট সুন্নি মিশন☀️ থানা- কুশমন্ডি, জেলা- দক্ষিন দিনাজপুর, রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, ভারত অভি অভিমত আযীযে মিল্লাত আল্লামা মুফতি আব্দুল আলীম সাহিব ইমাম-পাঁচতলা জামে মসজিদ, কালিয়াচক, মালদা, পশ্চিমবঙ্গ, نحمده و نصل و نسلم على رسوله الكريم أما بعد এখন মানুষের মূল লক্ষ্যই হয়েছে পার্থিব জীবনের সুখ - শান্তি ও ভোগ বিলাস যার অবগুণ্ঠনে অন্ধ হয়ে পড়েছে মানুষ। কিন্তু সে এটা জানে না যে, এটা তার ধ্বংসের কারণ। আল্লাহ তা'আলা বলেন : তোমরা পার্থিব জীবনকেই অগ্রাধিকার দাও, অথচ পরকালের জীবনই উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী।(সূরা আল আ'লা ১৬+১৭ আয়াত) যদি বড়লোক হতেই হয় তবে নিজ ক্ষমতায় হন স্ট্যান্ডার্ড ফকির হয়ে নয়! মেয়ের কাছে নিজেকে বিক্রি করে সেই মেয়ের সামনে নিজেকে পুরুষ বলতে লজ্জা করে না? এই সব লোকের হাতে চুড়ি পরে স্ত্রীর গোলামী করাই শোভা পায়। ভুলে গিয়েছ কি যে, আমি একজন মুসলমান আমাকে শরীয়াতের আইন ফল (Follow) করতেই হবে, এবং এর একটা পাই-পাই হিসাব দিতেই হবে। পরম ও পরম শ্রদ্ধা-ভাজন, ইসলামের চিন্তাবিদ হযরত আল্লামা মুফতি আমজাদ হুসাইন সিমনানী সাহিব এর যৌতুক সম্পর্কে লেখনীটি পাঠ করলাম সংক্ষিপ্ত হলেও খুব মূল্যবান, পাঠ করে আমার হৃদয় খুশিতে ভরে গিয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তুমি মুফতি সাহিব - এর সমস্ত লেখনীকে মানব জাতির মনোনীত করতে তাদের পথ প্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করুন! এবং তাঁর ঈমানী আমলে ও বয়সে বৃদ্ধি এবং শারীরিক সুস্থতা প্রদান করুন! আমীন। ইতি আব্দুল আযীয আলীম মোবাইল 9734135362 ইমাম পাঁচতলা জামে মসজিদ, কালিয়াচক, মালদা। অভি অভিমত আল্লামা মুফতি আব্দুল জলীল (রাঈসুদ্দিন) আসবী সাহিব শিক্ষক:- মাজহারুল উলুম হাই মাদ্রাসা(এইচ.এস)। আলিপুর, থানা: কালিয়াচক, জেলা: মালদা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। نحمده و نصلي على رسوله الكريم যৌতুক চুক্তি সংক্রান্ত মুফতি সাহেবের লেখনীটি পাঠ করে দেখলাম, এক কথায় বলা যেতে পারে, بے بحث و بے مثال پوسٹ অর্থাত! তুলনাহীন ও নজিরবিহীন একটি আর্টিকেল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মুফতি সাহেবকে আরও বেশি ইসলামি খেদমত করার শক্তি প্রদান করুন!

Comments -

Kaneez fatimaPosted On: 2022-05-24
This is very important message to all of us, every one must read and act on this article.
Mansur AlamPosted On: 2022-06-12
Masàallah ????????????????
Posted On: 2022-06-16
খুব সুন্দর। আলহামদুলিল্লাহ।
ZainabPosted On: 2022-06-17
Thanks you Mufti saheb for providing me with type of important discussion on dowry. Nowadays, Evey aalim and Mufti must discuss about dowry and demandings in marriage. Jazaakumullah khaira
Most Read Articles