রোজা সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল
রোজা সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল:-
মাওলানা হাশিমুদ্দিন মিসবাহী, মুর্শিদাবাদ
মাসআলা:- রাত্রে রোজার নিয়ত করলো, নিয়তহীন থাকা অবস্থায় সকাল হল, তার নিয়তহীনতা কয়েকদিন ছিল তাহলে কেবল প্রথম দিনের রোজা হবে। অবশিষ্ট দিন সমূহের রোজা ক্বাযা করতে হবে যদিও পূর্ণ রমজান নিয়তহীন অবস্থায় ছিল এবং নিয়ত করার সময় পায়নি।(দুররে মুখতার, বাহারে শরীয়ত)
মাসআলা:- সিঙ্গা লাগালে বা তেল অথবা সুরমা লাগালে রোজা ভঙ্গ হবে না। যদিও বা তেল বা সুরমার স্বাদ কণ্ঠনালীতে অনুভূত হয়। বরং থুথুর মধ্যে সুরমার রং দৃশ্যমান হলেও রোজা ভঙ্গ হবে না।(বাহারে শরীয়ত)
মাসআলা:-চুম্বন করল, কিন্তু বীর্যপাত হয়নি তো রোজা ভঙ্গ হবে না। অনুরূপ স্ত্রীর প্রতি বরং তার লজ্জা স্থানের দিকে দৃষ্টিপাত করল, হাত দ্বারা স্পর্শ করেনি বীর্যপাত হল, যদিও বারবার দৃষ্টিপাত করা বা সহবাস ইত্যাদির খেয়াল করার দরুন বীর্যপাত হয়েছে, যদিও দীর্ঘক্ষণ এ ধরনের খেয়াল করায় এরূপ হয়েছে, এমতাবস্থায় রোজা ভঙ্গ হবে না। (দুররে মুখতার, বাহারে শরীয়ত)
মাসআলাঃ কথা বলতে থুথু এসে ঠোঁট ভিজে গেছে এবং তা পান করে নিয়েছে, অথবা মুখ থেকে লালা টপকে পড়েছে, কিন্তু একেবারে পড়ে যায়নি, তা তুলে পান করে ফেলা হল বা নাকে শ্লেষা আসলো, বরং নাকের বাইরে এসে গেল, কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না তা অতিক্রম করে বেরিয়ে আসলো, বা কাশির আওয়াজে কাঁখারী মুখে আসলো এবং রেখে দিল, যতটুকই হোক না কেন, রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে এসব ব্যাপারে সতর্কতা অপরিহার্য। (আলমগীরি, দুররুল মোখতার, রাদ্দুল মোহতার, বাহারে শরীয়ত)
মাসআলাঃ মাছি কণ্ঠনালীর ভিতরে চলে গেছে, রোজা ভঙ্গ হবে না। ইচ্ছাকৃত হলে রোজা ভঙ্গ হবে। (আলমগীরি)
ভুলবশতঃ সহবাস করতেছিল, স্মরণ হওয়া মাত্রই পৃথক হয়ে গেল বা সুবহে সাদিকের পূর্বে সহবাসে লিপ্ত ছিল, সুবহে সাদেক হওয়া মাত্রই পৃথক হয়ে গেল, রোজা ভঙ্গ হবে না। যদি উভয় অবস্থায় পৃথক হওয়াটা স্মরণ হওয়া এবং সুবহে সাদেক হওয়া মাত্রই হয়েছে, পৃথক হওয়ায় নড়াচড়ায় সহবাস হয়নি, যদি স্মরণ হওয়া অথবা সুবহে সাদিক হওয়া মাত্রই পৃথক হয়নি, কেবল স্থির হয়ে আছে, নড়াচড়া করেনি, রোজা ভঙ্গ হবে। (দুররুল মোখতার)
মাসআলাঃ দু'দ্বার ভিন্ন অন্য পথে সহবাস করেছে, যতক্ষণ বীর্যপাত হয়নি রোজা ভঙ্গ হবে না, অনুরূপ হস্তমৈথুন দ্বারা বীর্য বের করলে, যদিও এটা কঠোর হারাম। হাদীস শরীফে হস্তমৈথুনকারীকে অভিশপ্ত বলা হয়েছে। (দুররুল মোখতার)
মাসআলা: হায়েজ ও নিফাস সম্পন্না মহিলা সুবহে সাদিকের পর পবিত্র হলো, যদি দ্বিপ্রহরের পূর্বে অন্য রোজার নিয়ত করলো, তাহলে সেদিনকার রোজা হবেনা; ফরজ ও হবেনা নফলও হবেনা। রুগ্ন ব্যক্তি বা মুসাফির নিয়ত করলো বা পাগল ছিলো সুস্থ হওয়ার পর নিয়ত করলো ওদের সকলের রোজা হবে, (দুররুল মোখতার)
মাসাআলা: নাবালেগ দিনে বালেগ হলো, বা কাফির দিনে মুসলমান হলো, আর ওটা সময় এমন ছিলো, যে সময়ে রোজার নিয়ত করা যায় এবং নিয়তও করে নিল অতঃপর রোজা ভঙ্গ করে দিল, তাইলে ওই দিনের কাযা ওয়াজিব নহে। (দুররুল মোখতার)
মাসআলা: মৃত ব্যক্তির রোজা কাযা রয়েছে, ওর ওলিকে ওর পক্ষ থেকে ফিদয়া আদায় করতে হবে, যদি মৃত ব্যক্তি এ ব্যপারে অসীয়ত করে যায় এবং মাল সম্পদও রেখে যায়। অন্যথায় ওলির উপর ফিদয়া দেয়া জরুরী নহে, তবে করলে তা হবে উত্তম।
মাসআলাঃ যদি গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী মহিলার নিজের বা শিশুর প্রাণের বাস্তব আশংকা হয় তাহলে সেসময় রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। সেই দুগ্ধদানকারিনী মহিলা শিশুর মা হোক বা ধাত্রী হোক। যদিও বা রমজান মাসে দুধ পান করানোর চাকুরী নিয়ে থাকে। (দুররুল মোখতার, রাদ্দুল মোহতার)
মাসআলাঃ এমন কোন জিনিষ ক্রয় করলো যার স্বাদ দেখা প্রয়োজন, স্বাদ না দেখলে ক্ষতি হতে পারে। তাহলে স্বাদ দেখতে ক্ষতি নেই অন্যথায় মাকরূহ। (দুররুল মোখতার)
মাসআলাঃ বিনা কারণে স্বাদ নেওয়া যে মাকরূহ বলা হয়েছে; এটা ফরজ রোজার হুকুম। নফল রোজার ক্ষেত্রে মাকরূহ হবে না, যদি ওর প্রয়োজন হয়। (রাদ্দুল মোহতার)
মাসআলাঃ মহিলাকে চুম্বন করা, গলা জড়িয়ে ধরা, শরীর স্পর্শ করা মাকরূহ, যদি বীর্যপাত হওয়ার আশংকা থাকে বা সহবাসে লিপ্ত হওয়ার ভয় হয় ঠোঁট এবং মুখে চুষণ করাটা মাকরূহ। (রাদ্দুল মোহতার)
Comments -