১৭ ই রমাদ্বান ইসলামী ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিন
১৭ ই রমাদ্বান ইসলামী ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিন
মুফতি শামসুদ্দোহা মিসবাহী
ফলতা, দঃ২৪পরগনা, পঃবঃ
১৭ই রমাদান ইসলামের ইতিহাসে স্মরণীয় একটি দিন এই দিনে মুসলমান ও কোরাইশ কাফেরদের মধ্যে প্রথম ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেতৃত্বে হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে রমাদ্বানের ১৭ তারিখে সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক এই বদরের যুদ্ধ। ইসলামী ইতিহাসে তা গাজওয়ায়ে বদর ও পবিত্র কোরআনে তাকে ইয়াওমুল ফুরক্বান অর্থাৎ মীমাংসার দিন (পার্থককারী দিন) বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআন মাজীদের সূরা ইমরান ও সূরা আনফালের মধ্যে বদর যুদ্ধের বর্ণনা এসেছে । মহান আল্লাহ বলেন '' হে মাহবুব! যখন আল্লাহ আপনাকে আপনার স্বপ্নে কাফেরদেরকে সংখ্যায় স্বল্প দেখিয়েছিলেন এবং হে মুসলমানগন! যদি তিনি তোমাদেরকে তাদের সংখ্যায় অধিক করে দেখাতেন তবে অবশ্যই তোমরা সাহস হারাতে এবং যুদ্ধ বিষয়ে পরস্পরের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করতে কিন্তু আল্লাহ রক্ষা করেছেন নিশ্চয়ই তিনি অন্তর সমূহের কথা জানেন ( সূরা আনফাল - আয়াত ৪৩)
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৬২২ খ্রিস্টাব্দে আল্লাহর নির্দেশে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন যার ফলে ইসলাম ও মুসলমানদের জীবনে এক নব অধ্যায়ের সূচনা হয় এবং ইসলামের প্রচার ও প্রসারের কাজ দ্রুত বেগে চলতে থাকে ফলে দুই বছরের অল্প সময়ের মধ্যে মদিনার চারিদিকে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে পড়ে অপরদিকে মুসলমান ও ইসলামকে সমূলে বিনাশ করার অপচেষ্ঠা ও বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও কু পরিকল্পনার সাথে সাথে মুসলমানদের উপর অন্যায় ও অত্যাচার অধিক হারে করতে থাকে এ সমস্ত বিষয়াদি কে সম্মুখে রেখে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৩১৩ জন আনসার ও মুহাজীর সাহাবাদের নিয়ে আবু সুফিয়ানের ( তখন তিনি ঈমান আনেন নি) নেতৃত্বে বাণিজ্য কাফেলার পথ অবরোধের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন অপরদিকে আবু সুফিয়ান উক্ত বিষয়টি জানতে পেরে আবু জাহেলকে তাদের রক্ষার বার্তা পাঠালো ফলে আবু জাহলের নেতৃত্বে ৭০০ উষ্ঠারোহী ১০০ অশ্বারোহী ও ২০০ পদাতিক সৈন্যসহ প্রায় এক হাজার সৈন্যবাহিনী মদিনা মুখী হয়, এ সংবাদ শুনে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিন্তিত হন তখনই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে আয়াত অবতীর্ণ করেন '' এবং আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো তাদের বিরুদ্ধে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং সীমা অতিক্রম করো না আল্লাহ পছন্দ করেনা সীমা অতিক্রম কারীদের''( সূরা বাক্বারাহ - আয়াত ১৯০)
তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৩১৩ জনের নিরস্ত্র ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে মদিনার দক্ষিণ-পশ্চিমে বদর নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন এবং দ্বিতীয় হিজরির ১৭ই রমাদ্বান মুসলমান ও কোরাইশ কাফেরদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় । অবশেষে আল্লাহর রহমত ও ফারিস্তার রূপে তার সাহায্যের বরকতে মুসলমান নিরস্তক ক্ষুদ্র বাহিনীর সাথে জয়লাভ করেন ও কাফের কোরাইশ বাহিনী পরাজিত হয়ে পালায়ন করে। এ যুদ্ধে কোরাইশদের নেতা আবু জাহেল সহ ৭০ জন নিহত হয় এবং ৭০ জন মুসলমানদের হাতে বন্দি হয়। পক্ষান্তরে ১৪ জন মুসলমান সাহাবায়ে কেরাম শাহাদাত বরণ করেন।
বদরের যুদ্ধ ছিল মুসলিম ও ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ এ যুদ্ধে মুসলমানগণ পরাজিত হলে পৃথিবী থেকে চিরতরে ইসলামের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেত যেমনটি হাদিসে উল্লেখ আছে " ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন বদরের দিন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণ করার জন্য প্রার্থনা করছি হে আল্লাহ! আপনি যদি চান ( কাফেররা জয়লাভ করুক ) তাহলে আপনার ইবাদত আর হবেনা। হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর হাত ধরে বলেন যথেষ্ট হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পাঠ করতে করতে বের হলেন " এখন তাড়া করা হচ্ছে এ দলকে ( অর্থাৎ শীঘ্রই দুশমনরা পরাজিত হবে ) এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে ( সূরা ক্বামার - আয়াত ৪৫) '' বুখারী শরীফ হাদীস নং - ৩৯৫৩ '' এবং বদর যুদ্ধের অবস্থাকে তুলে ধরে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআন শরীফে বলেন " নিশ্চয়ই আল্লাহ বদরের যুদ্ধে তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন যখন তোমরা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ছিলে ( সূরা আল ইমরান - আয়াত ১২৩)
মুসলমান সৈন্যবাহিনী সত্য পথের পথিক ও আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনকারী ছিলেন ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য পেয়েছেন এবং ৩১৩ জনের ক্ষুদ্র নিরস্ত্র সৈন্যবাহিনী ১০০০ অস্ত্রশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে জয় লাভ করে ইসলামে সর্বোত্তম ইতিহাস রচনা করতে সক্ষম হয়েছেন সুতরাং বর্তমান অত্যাচারিত মুসলিম সমাজ নিজের প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবা বর্গদের অনুসারী হয়ে যদি আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে তাহলে তারাও একদিন অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জয়লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।
Comments -