KeyOfIslam
Welcome To KeyOfIslam.com. KeyOfIslam is the platform to spread love and brotherhood among all people through the light of Prophet Mohammad(peace be upon him), the Final Messanger of Allah. Here you will get informations with precision.
Individual Articles
সুদের ভয়াবহ পরিণতি কোরআন ও হাদিসের আলোকে
সুদের ভয়াবহ পরিণতি কোরআন ও হাদিসের আলোকে মাওলানা ইনজেমামুল হক মিসবাহী, মুর্শিদাবাদ, কান্দি نَحْمَدُه وَ نُصَلِّى عَلٰىي رَسُوْلِهِ الْكَرِيْم সম্পদ হলো মহান আল্লাহ তায়ালার এক বিরাট বড় নিয়ামত, যার মাধ্যমে মানুষ মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশে নিজের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে, কিন্তু ইসলামী আইন প্রতিটি ব্যক্তির জন্য কেবল বৈধ সম্পদ বৈধ উপায়ে উপার্জন করা বাধ্যতামূলক(Compulsory) করেছে। কারণ, কিয়ামতের দিন প্রতিটি ব্যক্তিকে তার সম্পদ সম্পর্কে মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহি (accountability) করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ: সে কোথা থেকে তা অর্জন করেছে , কোথায় ব্যয় করেছে , এবং সে কি সম্পদ সম্পর্কে আল্লাহর অধিকারে কোন অবহেলা করেছে ? ইত্যাদি ইত্যাদি। আমাদের সমাজে যেসব বড় পাপ ও গুনাহ প্রচলিত হয়ে উঠছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক(dangerous)এবং মারাত্মক গুনহা হল সুদ। "সুদ" কে আরবি ভাষায় রিবা (ربا) বলা হয়। যার আভিধানিক অর্থ হলো: বৃদ্ধি, অতিরিক্ত,উচ্চতর হওয়া ইত্যাদি। ইসলামিক দৃষ্টিতে সুদ হলো সেই অর্থ বা সম্পদ যা ধার নেওয়া বা ঋণগ্রহণের সময় অতিরিক্ত হিসেবে ধারদাতাকে প্রদান করা হয়। সহজভাবে বলা যায়, যখন কেউ অন্যের কাছ থেকে ঋণ নেয়, তখন যদি ধারদাতা অতিরিক্ত কিছু দাবি করে বা প্রাপ্য রাখে, সেটাই সুদ। নিঃসন্দেহে ইসলাম ধর্মে সুদ (interest) সম্পূর্ণভাবে হারাম বা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কারণ, সুদ এমন এক ঘৃণা কাজ, যা সমাজে শুধু হিংসা, স্বার্থপরতা, হৃদয়হীনতা ও নিষ্ঠুরতার মত নৈতিক অবক্ষয় (moral degradation)জন্ম দেয়। আর সুদের ফলে সমাজে ধনী-গরীবের বৈষম্য বা অবিচার (Discrimination or injustice) বেড়ে যায়, অর্থনৈতিক ভারসাম্য (economic balance)বিনষ্ট হয় এবং সামাজিক শান্তি ও পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হয়। এই সমস্ত ক্ষতিকর প্রভাবের কারণেই পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সুদ গ্রহণকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন এবং এর পরিমিতির বিষয়ে কঠিন সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদের মধ্যে এরশাদ করেন: اَلَّذِیْنَ یَاْكُلُوْنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوْمُوْنَ اِلَّا كَمَا یَقُوْمُ الَّذِیْ یَتَخَبَّطُهُ الشَّیْطٰنُ مِنَ الْمَسِّؕ-ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَالُوْۤا اِنَّمَا الْبَیْعُ مِثْلُ الرِّبٰواۘ-وَ اَحَلَّ اللّٰهُ الْبَیْعَ وَ حَرَّمَ الرِّبٰواؕ-فَمَنْ جَآءَهٗ مَوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّهٖ فَانْتَهٰى فَلَهٗ مَا سَلَفَؕ-وَ اَمْرُهٗۤ اِلَى اللّٰهِؕ-وَ مَنْ عَادَ فَاُولٰٓىٕكَ اَصْحٰبُ النَّارِۚ-هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ -یَمْحَقُ اللّٰهُ الرِّبٰوا وَ یُرْبِی الصَّدَقٰتِؕ-وَ اللّٰهُ لَا یُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ اَثِیْمٍ(البقرة:٢٧٥-٢٧٦) অর্থাৎ:ঐসব লোক, যারা সুদ খায় ক্বিয়ামতের দিন দাঁড়াবে না, কিন্তু যেমন দাঁড়ায় সেই ব্যক্তি যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে। এটা এ জন্য যে, তারা বলেছিলো, 'বেচাকেনাও তো সুদেরই মতো'। আর আল্লাহ্ হালাল করেছেন বেচাকেনা কে এবং হারাম করেছেন সুদকে। সুতরাং যার কাছে তার প্রতিপালকের নিকট থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত রয়েছে, তবে তার জন্য হালাল (বৈধ) যা পূর্বে নিয়েছিল, এবং তার কাজ আল্লাহরই সোপর্দকৃত। আর যারা এখন অনুরূপ কাজ করবে, তারা দোযখবাসী, তারা সেখানে দীর্ঘস্থায়ী(permanent) হবে। আল্লাহ্ ধ্বংস করেন সুদকে এবং বর্ধিত করেন দানকে, এবং আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় নয় কোন অকৃতজ্ঞ, মহাপাপি (সিরাতুল জিনান) এই আয়াতে সুদের হারাম হওয়া ও সুদখোরদের পরিণতির কথা বলা হয়েছে। ইসলামে সুদ নিষিদ্ধ করার পেছনে বহু হিকমত(wisdom)রয়েছে। যেমন: 1/সুদে যে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়, তা অন্যায়ভাবে(unfairly)সম্পদ আদান-প্রদানে নেওয়া হয়, যা স্পষ্ট অবিচার। 2/ সুদের কারণে মানুষের মধ্যে সহানুভূতি ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক(relationship)নষ্ট হয়। তখন কেউ আর কাউকে বিনা স্বার্থে সাহায্য করতে চায় না। আল্লাহ তায়ালা আরো এরশাদ করেন: یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَاْكُلُوا الرِّبٰۤوا اَضْعَافًا مُّضٰعَفَةً۪- وَ اتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَۚ(أل عمران:130) অর্থাৎ:হে ঈমানদারগণ। তোমরা চিক্রবৃদ্ধি(compound growth) হারে সুদ খেয়োনা এবং আল্লাহকে ভয় করো এই আশায় যে, তোমাদের সাফল্য অর্জিত হবে। শাইখুত তাফসীর,হাকিমুল উম্মত মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, নিজের বিখ্যাত তাফসীর,তাফসীরে নাঈমির মধ্যে এই আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন: সুদ দুই প্রকার — ১. অতিরিক্ত বা জিয়াদাতি সুদ ২. ঋণভিত্তিক বা উধার সুদ অতিরিক্ত সুদ সে ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যখন একই প্রকার সম্পদের লেনদেন হয়, এবং সেখানে এক পক্ষ অন্য পক্ষের তুলনায় বেশি নেয়। এই ধরনের সুদ হারাম হওয়ার জন্য সম্পদের ধরণ (جنس) এবং ওজন বা পরিমাণ (وزن)—দু’টিই এক হওয়া আবশ্যক। উদাহরণস্বরূপ: সোনার বদলে সোনা, অথবা রূপার বদলে রূপা দেওয়া বা নেওয়া, যেখানে একজন বেশি পরিমাণ গ্রহণ করে। কিন্তু ঋণভিত্তিক(loan-based) সুদের ক্ষেত্রে সম্পদের ধরণ ও ওজন—এই দুইটির মধ্যে যেকোনো একটি পাওয়া গেলেও তা সুদ হিসাবে গণ্য হয় এবং সেটাও হারাম। এই আয়াতে উভয় প্রকার সুদকেই স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা আরো এরশাদ করেন: یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَ ذَرُوْا مَا بَقِیَ مِنَ الرِّبٰۤوا اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ-فَاِنْ لَّمْ تَفْعَلُوْا فَاْذَنُوْا بِحَرْبٍ مِّنَ اللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖۚ-وَ اِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوْسُ اَمْوَالِكُمْۚ-لَا تَظْلِمُوْنَ وَ لَا تُظْلَمُوْنَ(البقرة :278/279) অর্থাৎ:হে ঈমানদারগণ। আল্লাহকে ভয় করো এবং ছেড়ে দাও যা বাকি রয়েছে সুদের, যদি মুসলমান হও। অতঃপর যদি তোমরা অনুরূপ না করো, তবে নিশ্চিত বিশ্বাস করে নাও, আল্লাহ্ ও আল্লাহর রসুলের সাথে যুদ্ধের, এবং যদি তোমরা তওবা করো, তবে নিজেদের মূলধন নিয়ে নাও। না তোমরা কারো ক্ষতি সাধন করবে, না তোমাদের ক্ষতি হবে। (সিরাতুল জিনান) নিশ্চয়ই সুদখোরি ইসলাম ধর্মে এক মহাপাপ(great sin)। ওলামায়ে কেরামগণ বলেন, আল্লাহ তাআলা সমস্ত গোনাহের মধ্যে দুটি গোনাহ সম্পর্কে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে - ১. সুদ গ্রহণ করা, ২. আওলিয়ায়ে কেরামের (আল্লাহর বন্ধুদের) সঙ্গে শত্রুতা(enmity)পোষণ করা। হাদীসের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ কয়েক শ্রেণির মানুষের ওপর লা'নত (অভিশাপ) করেছেন— সুদ গ্রহণকারী,সুদ প্রদানকারী,সুদ লিপিকার (লেখক),সুদের সাক্ষী,শরীরকে আগুন বা নিখ দিয়ে দাগ দেওয়া ব্যক্তি,যাকাত না দেওয়া ব্যক্তি,মা-বাবার নাফরমান সন্তান(disobedient child),অন্যায়ভাবে এতিমের মাল আত্মসাৎকারী ইত্যাদি। আরো একটি হাদীসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, সুদখোরির কারণে দুর্ভিক্ষ (famine)দেখা দেয়, ঘুষ(bribe)মানুষের চরিত্রকে দূষিত করে,আর ব্যভিচার ও অশ্লীলতার কারণে সমাজে মহামারী ও বিপর্যয়(disaster)ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা আমাদের এই ভয়াবহ গোনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমিন সুম্মা আমীন। সুদ এর ব্যাপারে কয়েকটি হাদিস নিচে দেওয়া হল। 1/ সামুরাহ ইবনু জুনদুব রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ رَجُلَيْنِ أَتَيَانِي، ‏‏‏‏‏‏فَأَخْرَجَانِي إِلَى أَرْضٍ مُقَدَّسَةٍ، ‏‏‏‏‏‏فَانْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى نَهَرٍ مِنْ دَمٍ فِيهِ رَجُلٌ قَائِمٌ، ‏‏‏‏‏‏وَعَلَى وَسَطِ النَّهَرِ رَجُلٌ بَيْنَ يَدَيْهِ حِجَارَةٌ، ‏‏‏‏‏‏فَأَقْبَلَ الرَّجُلُ الَّذِي فِي النَّهَرِ، ‏‏‏‏‏‏فَإِذَا أَرَادَ الرَّجُلُ أَنْ يَخْرُجَ، ‏‏‏‏‏‏رَمَى الرَّجُلُ بِحَجَرٍ فِي فِيهِ فَرَدَّهُ حَيْثُ كَانَ، ‏‏‏‏‏‏فَجَعَلَ كُلَّمَا جَاءَ لِيَخْرُجَ رَمَى فِي فِيهِ بِحَجَرٍ، ‏‏‏‏‏‏فَيَرْجِعُ كَمَا كَانَ، ‏‏‏‏‏‏فَقُلْتُ:‏‏‏‏ مَا هَذَا ؟ فَقَالَ:‏‏‏‏ الَّذِي رَأَيْتَهُ فِي النَّهَرِ، ‏‏‏‏‏‏آكِلُ الرِّبَا. অর্থাৎ: আজ রাত্রে আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, দু’ব্যক্তি আমার নিকট আগমন করে আমাকে এক পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেল। আমরা চলতে চলতে এক রক্তের নদীর কাছে পৌঁছালাম। নদীর মধ্যস্থলে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে এবং আরেক ব্যক্তি নদীর তীরে, তার সামনে পাথর পড়ে রয়েছে। নদীর মাঝখানে লোকটি যখন বের হয়ে আসতে চায় তখন তীরের লোকটি তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করে তাকে তার স্থানে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে যতবার সে বেরিয়ে আসতে চায় ততবারই তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করছে আর সে নিজ স্থানে ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? সে বলল, যাকে আপনি (রক্তের) নদীতে দেখছেন, সে হল সুদখোর। (বুখারী শরীফ, ক্রয়-বিক্রয়ের অধ্যায়, হাদিস নম্বর:2085) 2/ রসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: الرِّبَا سَبْعُونَ حُوبًا أَيْسَرُهَا أَنْ يَنْكِحَ الرَّجُلُ أُمَّهُ ‏"‏ ‏.‏ অর্থাৎ: সুদের গুনাহর সত্তরটি স্তর(Seventy levels) রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র(small) স্তর হলো আপন মাকে বিবাহ (যেনা) করা। সূত্র: সুনান ইবনে মাজাহ, বাণিজ্য অধ্যায় (كتاب التجارات) হাদীস নম্বর: 2274, রাবি: হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু, এছাড়াও হাদিসটি কে মিশকাতুল মাসাবিহ, ক্রয়-বিক্রয়ের অধ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে, হাদীস নম্বর: 2826। 3/ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন: دِرْهَمٌ رِبًا يَأْكُلُهُ الرَّجُلُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَشَدُّ مِنْ سِتَّةٍ وَثَلَاثِينَ زَنْيَةً অর্থাৎ: কোনো ব্যক্তি যদি জেনে-বুঝে সুদের একটি মাত্র দিরহাম গ্রহণ করে, অতঃপর এটা ছত্রিশবার ব্যভিচারের(adultery)চেয়েও বড় গুনাহ। সূত্র: মুসনাদে আহমদ, হাদিস নম্বর: 20955, বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হানযালা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু। উক্ত হাদিসের সারমর্ম হল: সুদের গুনাহ এতটাই ভয়াবহ ও মারাত্মক(horrible and deadly) যে, তা একাধিকবার ব্যভিচারের মতো জঘন্য পাপ থেকেও আল্লাহর কাছে অধিক অপছন্দনীয়(disliked)। আর এটাও স্পষ্ট হয় যে, সুদের নিষিদ্ধতার গভীরতা ও ভয়াবহতা কতটা। সতর্কবার্তা: রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: فَدَعُوا الرِّبَا وَالرِّيبَةَ. অর্থাৎ: সুদ কে ছেড়ে দাও এবং যে জিনিসে সুদের গন্ধ পাওয়া যায় সেটাকেও ছেড়ে দাও। সূত্র: সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর: 2276, বর্ণনাকারী: উমার বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু। প্রিয় পাঠক এখন আপনারাই এই সমস্ত দলিলাদি (evidence) কে সামনে রেখে (decide) বলুন যে, সুদ গ্রহণ করা কি জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় ?, আল্লাহু আকবার! কিন্তু আজকের সমাজে সুদের প্রচলন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রকৃত কারজে হাসানাহ অর্থাৎ সুদবিহীন ঋণ হারিয়ে যাচ্ছে। ধনী মানুষ(rich man) বিনা লাভে অর্থ দিতে অনিচ্ছুক, আর অভাবী মানুষ(poor person) প্রয়োজনের চাপে সুদের অগ্নিকুণ্ডে(fireplace) ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। অথচ সামান্য দুনিয়াবি স্বার্থের জন্য আখেরাতের চিরস্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনা অত্যন্ত বড় বোকামি। আমাদের সমাজের আরেকটি বড় সমস্যা হলো বিয়ে-শাদি, খৎনা,এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠান রয়েছে যা কেন্দ্র করে মানুষ প্রায়ই নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে খরচ করে বসে। কুসংস্কার, পারিবারিক রীতি(family tradition)এবং সমাজের দৃষ্টির ভয়ে অনেকে অযথা ঋণগ্রস্ত হয়ে যায়। অথচ এ ধরনের বাড়াবাড়ি শুধু সাময়িক আনন্দ দেয়, কিন্তু পরবর্তী জীবনে দুঃখ-কষ্টের বোঝা বাড়ায়। তাই সকল মুসলমানের করণীয় হলো... 1/অপ্রয়োজনীয় আচার-অনুষ্ঠান(Unnecessary ritual) থেকে বেরিয়ে আসা। 2/সামর্থ্যের মধ্যে থেকে খরচ করা। 3/যেকোনো পরিস্থিতিতেই সুদী ঋণ থেকে দূরে থাকা। সুদ থেকে বাঁচা শুধু দুনিয়ার স্বস্তির ও আরামের জন্য নয়, বরং আখেরাতের মুক্তির জন্যও অপরিহার্য। والحمد لله رب العالمين، و صلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين

Comments -

Posted On: 2025-11-07
Assalamualaik
qylBUMgcHHobhfZzAXNeFPPosted On: 2025-11-24
FgpFQVFfCDOrLufkTQr
kDigMVxYsERZFoeLoRDxqIPosted On: 2026-01-11
tubOlJesfiltWpwibbOrnEC
Most Read Articles