KeyOfIslam
Welcome To KeyOfIslam.com. KeyOfIslam is the platform to spread love and brotherhood among all people through the light of Prophet Mohammad(peace be upon him), the Final Messanger of Allah. Here you will get informations with precision.
Individual Articles
বেনামাযীর শাস্তি
বেনামাযীর শাস্তি মাওলানা মোঃ মামুন হোসেন মুর্শিদাবাদী প্রিয় পাঠক!নামায একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যে নিয়মিত নামায আদায় করবে, সে জান্নাতের হকদার হবে আর যে নামায পড়বে না, সে জাহান্নামের আযাবের উপযুক্ত হবে। প্রতিটি মুসলমান, সজ্ঞান ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীর জন্য দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া ফরয। নামাযের ফরযিয়াতকে (অর্থাৎ তা ফরয হওয়াকে) অস্বীকার করা কুফরী আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এক ওয়াক্ত নামাযও ছেড়ে দেয়, সে ফাসিক, চরম গুনাহগার এবং জাহান্নামের আযাবের উপযুক্ত। তারপরেও আমাদের সমাজে অধিকাংশ মানুষ এই নামায থেকে পিছিয়ে।দুনিয়াবী কাজের বাহানায় আমরা নামায কাযা করে দিচ্ছি।তাই আসুন কোরআন ও হাদীসের আলোকে বেনামাযীর শাস্তি সম্পর্কে যেনে নিই, যাতে আমরা নিজেকে নামাযীরূপে গড়ে তুলতে পারি। কোরআনে বেনামাযীর শাস্তি আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন: فَوَیْلٌ لِّلْمُصَلِّیْنَۙ .الَّذِیْنَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُوْنَۙ. অনুবাদ:সুতরাং ওই নামাযীদের জন্য ওয়ীল রয়েছে; যারা আপন নামাযকে ভুলে বসেছে। (সূরা মাউন,পারা:30,আয়াত:4-5) উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে যে, যারা নামাজের ব্যাপারে গাফিল, তাদের জন্য ওয়ীল রয়েছে। ওয়ীল কি জিনিষ? হুজুর সদরুশ শারীয়াহ আল্লামা মুফতী আমজাদ আলী আযমী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:জাহান্নামে একটি উপত্যকা রয়েছে যার কঠোরতা থেকে অন্যান্য জাহান্নাম পর্যন্ত মুক্তি চায় তার নাম হলো ওয়ীল। ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ পরিত্যাগ কারী এর অন্তর্ভুক্ত হবে। (বাহারে শারিআত, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা:434) অপর এক জায়গায় আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন: فَخَلَفَ مِنْۢ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ اَضَاعُوا الصَّلٰوةَ وَ اتَّبَعُوا الشَّهَوٰتِ فَسَوْفَ یَلْقَوْنَ غَیًّاۙ অনুবাদ:অতঃপর তাদের পর তাদের স্থলে ওই অপদার্থ উত্তরাধিকারীগণ এলো, যারা নামাযগুলো নষ্ট করেছে এবং নিজেদের কুপ্রবৃত্তিগুলোর অনুসরণ করেছে, সুতরাং অবিলম্বে তারা দোযখের মধ্যে 'গায়্য' এর জঙ্গল পাবে। (সূরা মারইয়াম,পারা:16,আয়াত:59) উক্ত আয়াতে মুবারাকায় "গায়্য” এর উল্লেখ রয়েছে এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য জাহান্নামের একটি উপত্যাকা। হুযূর সদরুশ শারীয়াহ, হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী বলেন: “গায়্য” জাহান্নামের একটি উপত্যাকা, যার গরম এবং গভীরতা সবচেয়ে বেশি, এর মধ্যে একটি কূপ রয়েছে যার নাম হচ্ছে "হাবহাব", যখন জাহান্নামের আগুন নিভু নিভু হয়ে যায় তখন আল্লাহ পাক এই কূপ খুলে দেন, যার কারণে তা (অর্থাৎ জাহান্নামের আগুন) আবারো প্রজ্বলিত হয়ে যায়।আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنُهُمْ سَعِيرًا অনুবাদ: যখন কখনো তা স্তিমিত হয়ে আসবে তখন আমি তাদের জন্য সেটাকে আরো প্রজ্বলিত করে দেবো। (সূরা বানী ঈসরাইল,পারা:15,আয়াত: 17) এই কূপ বেনামাযী, ব্যভিচারী, মদ্যপায়ী, সুদখোর, পিতামাতাকে কষ্ট প্রদানকারীদের জন্যই। (বাহারে শারিআত, প্রথম খন্ডন, পৃষ্ঠা:434) এ ছাড়াও আল্লাহ তা'য়ালা বেনামাযীর সম্পর্কে বলেন: فِیْ جَنّٰتٍ یَتَسَآءَلُوْنَ.عَنِ الْمُجْرِمِیْنَ.مَا سَلَكَكُمْ فِیْ سَقَرَ.قَالُوْا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّیْنَ. অনুবাদ: জান্নাতের মধ্যে জাহান্নামীদেরকে জিঙ্গাসা করা হবে। কোন কাজটা তোমাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে গিয়েছে? তারা বলবে আমরা নামাযী ছিলাম না। (সূরা মুদ্দাসসীর,পারা:29, আয়াত:40-43) প্রিয় পাঠকগণ! উপরোক্ত আয়াত সমূহ থেকে আমরা এ কথা বুঝতে পারলাম যে,নামাজ পরিত্যাগ করা হলো অনেক বড় গুনাহ এবং জাহান্নামে যাওয়ার কাজ। এবং বেনামাযীরা নিজেই স্বীকার করবে যে,আমরা নামাজ না পড়ার কারণে জাহান্নামে এসেছি। সুতরাং হে মুসলমান এখনো সময় রয়েছে আসুন আমরা যদি নামাযী না হয়ে থাকি তাহলে অতীতের সমস্ত গুনাহ থেকে তওবা করে আজ থেকেই নামায পড়ার নিয়ত করে নিই নচেৎ হাশরের ময়দানে আফসোস করা ছাড়া আমাদের নিকটে আর কিছুই থাকবে না। হাদীস শরীফে বেনামাযীর শাস্তি সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! হাদীস শরীফের মধ্যে যেরূপ নামাজের ফজিলত বর্ণিত রয়েছে, তদ্রূপ হাদীসের পর্যালোচনা করলে একথাও বোঝা যায় যে, নামাজ না পড়ার অসংখ্য শাস্তি ও বর্ণিত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে নিম্নে কিছু হাদীস লক্ষ্য করুন! নামায পরিত্যাগকারী প্রসঙ্গে عن بريدة قال:العَهدُ الذي بَينَنا وبَينَهُم الصلاةُ، فمن تَرَكَها فَقَد كَفَرَ. অনুবাদ: হযরত বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: হুজুর রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: আমাদের ও তাদের (কাফিরদের) মাঝে মুক্তির যে প্রতিশ্রুতি আছে তা হল নামায। সুতরাং যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দেয়, সে কুফুরী (অকৃতজ্ঞতার) কাজ করে। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-2621,নাসাঈ শরীফ, হাদীস নং-463, ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-1080,সহীহুল বিহারী বাংলা, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা নং-579,হাদীস নং -2435) عَنْ نَوْفَلِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الدِّيلِي قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صل الله عليه وسلم: مَنْ فَاتَتْهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وَتِرَ أَهْلُهُ وَمَالُهُ. অনুবাদ:হযরত নাওফাল ইবনে মু'আবিয়্যাহ আদ-দীলিয়্যী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুর রাসূলে আরবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তির আসরের সালাত ফাওত হয়ে গেল, তার পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল। (সহীহুল বিহারী বাংলা, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা নং-580,হাদীস নং -2437) عن أبي هريرة، قَالَ: قَالَ رَسُول الله: لَا سَهْمَ فِي الْإِسْلَامِ لِمَنْ لَا صَلَاةَ لَهُ، وَلَا صَلَاةَ لِمَنْ لَا وُضُوْءَ لَهُ. অনুবাদ:হযরত আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুর রাসূলে আরবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যার সালাত নেই তার জন্য ইসলামে কোন অংশ নেই। আর যার ওযূ নেই তার কোন সালাত নেই। (সহীহুল বিহারী বাংলা, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা নং-580,হাদীস নং -2438) عَنْ أُمَّ أَيْمَنَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ: قَالَ: لَا تَتْرُكِ الصَّلَاةَ مُتَعَمِّدًا، فَإِنَّهُ مَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللهِ وَرَسُولِهِ. অনুবাদ:হযরত উম্মে আইমান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় হুজুর রাসূলে আরবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তুমি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগ করো না। কেননা নিশ্চয় যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ছেড়ে দেয় অবশ্যই তার থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দায়িত্বমুক্ত হয়ে যান। (সহীহুল বিহারী বাংলা, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা নং-580,হাদীস নং -2439) ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَيْسَ صَلاَةٌ أَثْقَلَ عَلَى الْمُنَافِقِينَ مِنَ الْفَجْرِ وَالْعِشَاءِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا، لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ الْمُؤَذِّنَ فَيُقِيمَ، ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً يَؤُمُّ النَّاسَ، ثُمَّ آخُذَ شُعَلاً مِنْ نَارٍ فَأُحَرِّقَ عَلَى مَنْ لاَ يَخْرُجُ إِلَى الصَّلاَةِ بَعْدُ. অনুবাদ: হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুনাফিকদের জন্য ফজর ও ‘ইশার সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী সালাত আর নেই। এ দু’ সালাতের কী ফযীলত, তা যদি তারা জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:আমি ইচ্ছে করেছিলাম যে, মুয়াজ্জিনকে ইক্বামাত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামত করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে অতঃপর যারা সালাতে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-657) নামাজ ধর্মের স্তম্ভ عن عمر قال:جاء رجلٌ فقال يا رسولَ اللهِ أيُّ شيءٍ أحبُّ عند اللهِ فقال الصَّلاةُ لوقتِها ومن ترك الصّلاةَ فلا دِينَ له والصَّلاةُ عمادُ الدِّينِ. অনুবাদ: হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন: একজন ব্যক্তি নাবীর নিকটে এসে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর নিকটে কোন আমল টি সবচাইতে উত্তম? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিলেন সময় মত নামাজ পড়া। আর যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল তার কোন দীন নেই। এবং নামাজ হলো দীনের স্তম্ভ। (শুআ'বুল ঈমান, হাদীস নং-2807, মাক্বাসিদুল হাসানাহ, হাদীস নং-316, জামিয়ে স্বাগীর সূয়ুতি, হাদীস নং-5186) এই হাদীসে নামাজকে ধর্মের স্তম্ভ বলা হয়েছে। ঘর নির্মাণে স্তম্ভ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি একটি সুন্দর ও জাঁকজমকপূর্ণ ঘর তৈরি করা হয় এবং পরে এর সমস্ত স্তম্ভ ভেঙে ফেলা হয়, তাহলে পুরো জাঁকজমকপূর্ণ ঘরটি ভেঙে পড়বে এবং ধ্বংস হয়ে যাবে। ইসলামে নামাজের গুরুত্ব এটাই, এটি ছাড়া ইসলামের স্তম্ভ টিকে থাকবে না। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি নামাজ পড়ে না সে এমন একজনের মতো যে ইসলামের স্তম্ভটিই ভেঙে ফেলেছে। এখন, তার ইসলাম এবং ঈমানের উপর ভরসা কী? বেনামাযীর হাশর عن عبد الله بن عمرو بن العاص عَنِ النَّبيِّ ﷺ: أنَّه ذَكَرَ الصَّلاةَ يَومًا فقال: مَن حافَظَ عليها كانت له نورًا وبُرهانًا ونَجاةً يَومَ القيامةِ، ومَن لم يُحافِظْ عليها لم تَكُنْ له نورًا ولا بُرهانًا ولا نَجاةً، وكان يَومَ القيامةِ مَعَ قارونَ وفِرعَونَ وهامانَ وأُبَيِّ بنِ خَلَفٍ. অনুবাদ:হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমার ইবনুল আ'স হতে বর্ণিত, তিনি হুজুর নাবীয়ে আকরাম হতে বর্ণনা করেন। হুজুর রাসূলে আরবী একদিন সালাতের কথা উল্লেখ করে বলেন, যে ব্যক্তি তা (সালাত) হেফাজত করবে, কিয়ামত দিবসে তা তার জন্য নূর, দলীল-প্রমাণ ও জাহান্নাম হতে মুক্তি (এর উপায়) হবে। আর যে ব্যক্তি তা (সালাত) হেফাজত করবে না, কিয়ামত দিবসে তা তার জন্য নূর, দলীল-প্রমাণ ও জাহান্নাম মুক্তি (এর উপায়) হবে না। আর এ ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে কারুন, ফিরআউন, হামান ও উবাই ইবনে খালফ এর সাথে থাকবে। (মুসনাদে আহমাদ: হাদীস নং-6576, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-1467,শুআ'বুল ঈমান, হাদীস নং-2565, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-2721, সহীহুল বিহারী বাংলা, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা নং-493,হাদীস নং -2273) عَنْ ابْنِ عَمَرٍو قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَمْسُ صَلَواتِ مَنْ حَافَظَ عَلَيْهِنَّ كَانَتْ لَهُ نُوراً وبُرهاناً ونَجَاةً يَوْمَ القِيامَةِ وَمَنْ لَمْ يُحافِظْ عَلَيْهِنَّ لَمْ يَكُنْ لَهُ نُورٌ يَوْمَ القيامة ولا بُرْهَانٌ وَلَا نَجَاة وَكَانَ يَوْمَ القِيامَةِ مَعَ فِرْعَوْنَ وَقَارُونَ وَهَامَانَ وَأُبِيَّ بنِ خلف. অনুবাদ:হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুর রাসূলে আকরাম ইরশাদ করেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, যে ব্যক্তি তা (সালাত) হেফাজত করবে, তা তার জন্য কিয়ামতের দিবসে তা তার জন্য নূর, দলীল-প্রমাণ ও জাহান্নাম হতে মুক্তি (এর উপায়) হবে। আর যে ব্যক্তি তা (সালাত) হেফাজত করবে না, কিয়ামত দিবসে তা তার জন্য নূর, দলীল-প্রমাণ ও জাহান্নাম মুক্তি (এর উপায়) হবে না। আর এ ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে কারুন, ফিরআউন, হামান ও উবাই ইবনে খালফ এর সাথে থাকবে। (জামিয়ে স্বাগীর সূয়ুতি, হাদীস নং-6597, সহীহুল বিহারী বাংলা, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা নং-493,হাদীস নং -2274) নামায পরিত্যাগকারীর প্রতি আল্লাহর কোন অঙ্গীকার থাকে না عَنِ اِبْن قَتَادَةَ بْنَ رِبْعِيَّ قَالَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ افْتَرَضْتُ عَلَى أُمَّتِكَ خَمْسَ صَلَوَاتٍ، وَعَهِدْتُ عِنْدِي عَهْدًا أَنَّهُ مَنْ حَافَظَ عَلَيْهِنَّ لِوَقْتِهِنَّ أَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهِنَّ فَلَا عَهْدَ لَهُ عِنْدِي অনুবাদ:হযরত আবু ক্বাতাদাহ ইবনে রিবঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় হুজুর রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: মহামহিম আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, আমি আপনার উম্মাতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায) ফরজ করেছি এবং আমি আমার নিকট এ অঙ্গীকার করেছি যে, যে ব্যক্তি যথাযথভাবে ওয়াক্তমত এসব সালাতের হেফাজত করবে, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে হেফাজত করবে না, তার জন্য আমার পক্ষ থেকে কোন অঙ্গীকার নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-1403, সহীহুল বিহারী বাংলা, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা নং-474,হাদীস নং -2247) عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ قَالَ: أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ: أَتَانِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السلام مِنْ عِنْدِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ إِنِّي قَدْ فَرَضْتُ عَلَى أُمَّتِكَ خَمْسَ صَلَوَاتٍ مَنْ وَافَى بِهِنَّ عَلَى وَضُوئِهِنَّ وَمَوَاقِيَتِهِنَّ وَرُكُوعِهِنَّ وَسُجُودِهِنَّ فَإِنَّ لَهُ عِنْدِي بِهِنَّ عَهْدًا أَنْ أُدْخِلَهُ بِهِنَّ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَقِيَنِي قَدِ انْتَقَصَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا أَوْ كَلِمَةً شِبْهَهَا فَلَيْسَ لَهُ عِنْدِي عَهْدٌ إِنْ شِئْتُ عَذَّبْتُهُ وَإِنْ شِئْتُ رَحِمَتُهُ. অনুবাদ:হযরত উবাদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় আমি হুজুর রাসূলে আরবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমার দরবারে আগমন করেন এবং বলেন, হে মুহাম্মদ! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মহামহিম আল্লাহ বলছেন, নিশ্চয় আমি আপনার উম্মাতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছি। যে ব্যক্তি তা ভালোভাবে ওযু করে যথাসময়ে তার রুকু' ও সিজদাহ সহকারে পূর্ণ (আদায়) করবে, নিশ্চয় তার জন্য আমার কাছে প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে ব্যক্তি আমার সাক্ষাত করলো, অথচ সে তার মধ্যে কিছু ঘাটতি করেছে অথবা অনুরূপ কোন শব্দ, তার জন্য আমার কাছে কোন প্রতিশ্রুতি নেই। আমি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিব অথবা আমি ইচ্ছা করলে তার প্রতি দয়া করবো। (মুসনাদে আবূ দাউদ তায়ালিসি, হাদীস নং-574,সহীহুল বিহারী বাংলা, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা নং-475,হাদীস নং -2248) عَن أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُولَ اللهِ : كَتَبَ اللَّهُ عَلَى الْعِبَادِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فَمَنْ أَتَى بِهِنَّ وَقَدْ أَذَى حَقَّهُنَّ كَانَ لَهُ عِنْدَ اللهِ عَهْدًا أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ أَتَى بِهِنَّ وَقَدْ ضَيَّعَ حَقَّهُنَّ اسْتِخْفَافًا بهنَّ لَمْ يَكُنْ لَهُ عَهْدٌ وَإِنْ شَاءَ عَذَبَهُ وَإِنْ شَاءَ رَحِمه. অনুবাদ:হযরত আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজুর রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:আল্লাহ তাআলা বান্দার উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি তা পালন (আদায়) করবে এবং তার হক আদায় করবে, তার জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে ব্যক্তি তা পালন (আদায়) করবে না এবং এর হক্ক অবহেলাহেতু পরিত্যাগ বা নষ্ট করবে, তার জন্য আল্লাহর কাছে প্রতিশ্রুতি নেই। আল্লাহ ইচ্ছা করেন তাকে শাস্তি দিবেন এবং যদি ইচ্ছা করেন দয়া করবেন। (সহীহুল বিহারী বাংলা, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা নং-476,হাদীস নং -2250) প্রিয় পাঠকবৃন্দ! ওপরে উল্লিখিত আলোচনার সমষ্টি হতে আমরা একথা খুব সহজেই বুঝতে পারলাম যে, নামায আল্লাহর নিকটে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আর নামায পরিত্যাগকারী চরম পর্যায়ের গুনাহগার। নামায যে পড়ে না তার জন্য ভয়ংকর শাস্তি রয়েছে। জাহান্নামের ভয়ংকর আগুনে জ্বলতে হবে। অতএব আসুন আমরা সত্য দিলে আল্লাহর নিকটে তওবা করে অঙ্গীকারবদ্ধ হই যে, যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন নামায আদায় করব, ইনশাআল্লাহ।পরিশেষে বলি আল্লাহ তা'আলা যেন আমাদের সকলকে পরিপূর্ণ নামাযীরূপে গ্ৰহণ করেন, আমিন সুম্মা আমীন।

Comments -

Most Read Articles