KeyOfIslam
Welcome To KeyOfIslam.com. KeyOfIslam is the platform to spread love and brotherhood among all people through the light of Prophet Mohammad(peace be upon him), the Final Messanger of Allah. Here you will get informations with precision.
Individual Articles
অমুসলিম মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাতের দোয়া করার বিধান
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ কী বলেন মুফতী সাহেবগণ এ মাসআলা ব্যাপারে যে, জয় প্রকাশ নামে এক অমুসলিম মৃত্যু বরণ করে। সে বেঁচে থাকা কালিন হিন্দু ও মুসলমান সকলের সহযোগিতা করত। ফলে কিছু মুসলমান তার মৃত্যুর কথা শুনে আল্লহর নিকটে তার মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থির দোয়া করে। এখন জানার বিষয় হল যে, কোন অমুসলিমের জন্য কি মাগফিরাতের দোয়া করা জায়েয? যারা দোয়া করেছে তাদের উপর শরীআতের বিধান কী হবে? الجواب بعون الوھاب اللھم ھدایة الحق والصواب উত্তর:- কোন অমুসলিমের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা কুফরী। জয় প্রকাশ অমুসলিম (হিন্দু) এ কথা জেনেও যারা তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করেছে তারা সকলেই কাফির ও মুরতাদ হয়ে গেছে। কেননা, এতে কোরআনকে অস্বীকার করা হয়। পবিত্র কুরআনুল কারীমের মধ্যে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, কাফিরের কোন ক্ষমা নেই। অমুসলিম যতই ভালো কাজ করুক না কেন সে তার কৃতকর্মের কোন নেকী পাবে না। কোরআন শরীফে রয়েছে: وَ قَدِمْنَاۤ اِلٰى مَا عَمِلُوْا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنٰهُ هَبَآءً مَّنْثُوْرً অনুবাদ:- এবং যা কিছু তারা (কাফিররা ) কাজ করেছিল আমি ইচ্ছা করে সেগুলোকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধূলিকণায় বিক্ষিপ্ত অণু-পরমাণু করে দিয়েছি যা দিনের তীব্র রোদের মধ্যে দৃষ্টিগোচর হয়। (পারা: 19,সূরা: ফুরকান, আয়াত: 23) উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে যে, কোন অমুসলিম নিজের যে কোনো কর্মের কোন নেকী পায়না। কুফর ও শিরক করে সেই অবস্থাতেই মৃত্যু বরণ করার জন্য তার ক্ষমা অসম্ভব। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: اِنَّ اللّٰهَ لَا یَغْفِرُ اَنْ یُّشْرَكَ بِهٖ وَ یَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَنْ یَّشَآءُۚ অনুবাদ:- নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করেন না যে তার সাথে কুফর শিরক করা হবে এবং কুফরের নিম্নে যা কিছু আছে তা যাকে চান ক্ষমা করে দেন। (পারা: 5, সূরা: নিসা, আয়াত: 48) উক্ত আয়াত থেকে বুঝা গেল যে, কেউ যদি কুফর ও শিরক করে এবং সে অবস্থাতেই মারা যায় তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না। কোনো অমুসলিমের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: مَا كَانَ لِلنَّبِیِّ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَنْ یَّسْتَغْفِرُوْا لِلْمُشْرِكِیْنَ وَ لَوْ كَانُـوْۤا اُولِیْ قُرْبٰى مِنْۢ بَعْدِ مَا تَبَیَّنَ لَهُمْ اَنَّهُمْ اَصْحٰبُ الْجَحِیْمِ অনুবাদ:- নবী ও মুমিনদের জন্য সঙ্গত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও হয় তারা আত্বীয়-স্বজন , যখন তাদের সামনে স্পষ্ট হল যে ঐসব লোক জাহান্নামী। (পারা,11,সূরা: তাওবা, আয়াত 116) রাদ্দুল মুহতার নামক কিতাবে রয়েছে: ”ان الدعاء بالمغفرۃ للکافر کفر অর্থাৎ:- কাফিরের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা কুফরী। (খন্ড:2, পৃষ্ঠা: 288) ফাতাওয়া রাযাবীয়াহ -এর মধ্যে রয়েছে: “কাফিরের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা ও ফাতেহা পাঠ করা একেবারে স্পষ্ট কুফরী এবং কুরআনুল করীমের প্রকাশ্য অস্বীকার।” (ফাতাওয়া রাযাবীয়াহ, খন্ড: 21, পৃষ্ঠা: 228) বাহারে শরীআত -এর মধ্যে রয়েছে: “যে ব্যক্তি কোনো কাফিরের মৃত্যুর পর তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করে, অথবা কোনো মৃত মুরতাদকে ‘মরহুম’ বা ‘মাগফুর’ বলে উল্লেখ করে, সে নিজেই কাফির হয়ে যায়।” (বাহারে শরীআত, হিসসা: 1, পৃষ্ঠা: 187) অতএব জয় প্রকাশ অমুসলিম এ কথা জানার পরেও যারা তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করেছে (সেটা যেখানেই হোক না কেন সোশ্যাল মিডিয়াতে হোক বা সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে হোক ) তারা সকলেই কাফির ও মুরতাদ। তাদের ওপরে তওবা করা ফরয। আর যদি বিবাহিত হয় তাহলে পুনরায় নিজের স্ত্রীকে বিবাহ করা অপরিহার্য। হুযূর শারেহে বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: “কাফিরের জন্য ইসালে সাওয়াব করা বা ফাতেহা পড়া কুফরী কাজ। এমন ব্যক্তির ওপর তাওবা করা, পূনরায় ঈমান আনয়ন করা এবং পুনরায় বিবাহ করা অনিবার্য ।" (ফাতাওয়া শারেহে বুখারী,2, পৃষ্ঠা : 294) অতএব যারা জয় প্রকাশের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করেছে তারা কাফির হয়ে গেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাওবা করে পুনরায় ইসলাম কবুল না করবে, যদি বিবাহিত হয় তাহলে দ্বিতীয়বার বিবাহ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মুসলমানদের উপর ফরয হল যে, তাদের সাথে সালাম-কালাম, মেলামেশা বন্ধ করে দিবে অন্যথায় তারাও গুনাহগার হবে। ক্বোরআনে শরীফের মধ্যে রয়েছে: وَ اِمَّا یُنْسِیَنَّكَ الشَّیْطٰنُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرٰى مَعَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ অনুবাদ:- এবং যখনই তোমাকে শয়তান ভুলিয়ে দেবে অতঃপর স্মরণে আসতেই যালিমদের নিকটে বসো না। (সূরা: আনআম, আয়াত: 68) উত্তর প্রদানকারী গুলজার আলী মিসবাহী সিনিয়র শিক্ষক ও মুফতী: খালতিপুর মাদ্রাসা, কালিয়াচক, মালদা। এসিস্ট্যান্ট ক্বাযী: দারুল ইফতা ওয়াল ক্বাযা, কালিয়াচক, মালদা। সম্পাদক - মাসিক আল-মিসবাহ 02 জমাদিউদ উলা 1447 হিজরী 25 অক্টোবর 2025 খ্রিষ্টাব্দ

Comments -

Most Read Articles