KeyOfIslam
Welcome To KeyOfIslam.com. KeyOfIslam is the platform to spread love and brotherhood among all people through the light of Prophet Mohammad(peace be upon him), the Final Messanger of Allah. Here you will get informations with precision.
Individual Articles
হিংসা কি ও হিংসা করার বিধান কী ?
হিংসা কি ও হিংসা করার বিধান কী ? শব্দ গত অর্থ হাসাদ শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত, যার শব্দগত অর্থ হলো কোনো কিছুকে ক্ষয় করা বা ফাঁপা করে তোলা। এই শব্দটি এমন এক মানসিক অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে কেউ অপরের প্রাপ্ত কোনো নিয়ামত বা ভালো কিছু দেখে তা নিঃশেষ হয়ে যাক এই কামনা করে। পরিভাষাগত অর্থ ইসলামি পরিভাষায় হিংসা বলতে বোঝায় অন্য কেউ যে কোনো সম্মান, সৌভাগ্য বা আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামত পেয়েছে, তা দেখে মনের ভেতরে এই আকাঙ্ক্ষা করা যে, ঐ নিয়ামতটি তার কাছ থেকে চলে যাক বা বিনষ্ট হয়ে যাক। হিংসুক ব্যক্তি অন্যের সুখ, সফলতা কিংবা উন্নতি সহ্য করতে পারে না এবং চায় যে তার ক্ষতি হোক। এই হিংসা একটি অশুভ ও নেতিবাচক মানসিক প্রবণতা, যা মানুষকে অন্যায়, ঈর্ষা এবং গোনাহের পথে ধাবিত করে। উদাহরণ: যেমন একজন ব্যক্তি একটি নতুন গাড়ি কিনেছে। আরেক ব্যক্তি সেই গাড়িটি দেখে মুখে কিছু না বললেও মনে মনে এই কামনা করছে “ইশ! গাড়িটা যদি নষ্ট হয়ে যেত কিংবা তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া যেত! আল্লাহু আকবার এই রকম ভাবনা এবং কামনাকেই ইসলামে 'হিংসা' বলা হয়, এবং এটি একটি গর্হিত ও গোনাহপূর্ণ কাজ হিংসা মানুষের একটি বদ অভ্যাস যেখানে কেউ অন্যের সুখ, সাফল্য বা কোনো ভালো কিছু দেখে সহ্য করতে পারে না। তার মনে তখন এই নিকৃষ্ট চিন্তাটি আসে ওর এই ভালো জিনিসটা নষ্ট হয়ে যাক, ও যেন এটা না পায় এই রকম ভাবনা শুধু অন্যের ক্ষতি চাওয়া নয়, বরং নিজের মনকেও অশান্ত করে তোলে। ইসলামে হিংসা করা একেবারেই নিষিদ্ধ, কারণ এটি মানুষের হৃদয়কে কালো করে দেয় এবং নেক আমল বা ভালো কাজ নষ্ট করে দেয়। হিংসুক ব্যক্তি নিজের জীবনেও শান্তি পায় না এবং সর্বদা চিন্তা ও দুঃখের মধ্যে থাকে। তাই ইসলাম অপরের খুশিতে খুশি হওয়া এবং অপরের দুঃখে কষ্ট অনুভব করার হুকুম প্রদান করে। আল্লাহ্ তাআলা কুরআন মাজিদ এর মধ্যে ইরশাদ করেন وَ مِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَد অনুবাদ কানজুল ঈমান: (আমি আশ্রয় নিচ্ছি সৃষ্টিকর্তার) হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে আমার প্রতি হিংসাপরায়ণ হয়। (সুরা ফালাক আয়াত 5) আর সাধারণভাবে, প্রতিটি হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়ার জন্য এই পবিত্র আয়াতই যথেষ্ট। ইবলিস ও কাবিল এর জীবন্ত দৃষ্টান্ত হিংসার ভয়াবহতা বোঝাতে কুরআন আমাদের দুই ঐতিহাসিক ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে 1 : আসমানে হিংসার প্রথম শিকার ছিল ইবলিস। আদম (علیہ السلام )কে সিজদা করার হুকুম এলে সে ঈর্ষায় অন্ধ হয়ে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে বসে। তার মনে জ্বলে ওঠে হিংসার আগুন। আমি আগুন থেকে সৃষ্টি, আর আদম (علیہ السلام) মাটি থেকে, তাকে আমি সিজদা করব কেন 2 : পৃথিবীতে হিংসার প্রথম প্রতিফলন দেখা যায় কাবিলের হাতে। তার ভাই হাবিল যখন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে, তখন কাবিল তা সহ্য করতে না পেরে হিংসায় তাকে হত্যা করে বসে। ইতিহাসে সেটাই ছিল মানবজাতির প্রথম হত্যা আর এর পেছনেও ছিল হিংসার কালো ছায়া। এবং আরো কুরআন মাজীদে ঘোষণা করেন اِذْ قَالُوْا لَیُوْسُفُ وَ اَخُوْهُ اَحَبُّ اِلٰۤى اَبِیْنَا مِنَّا وَ نَحْنُ عُصْبَةٌؕ-اِنَّ اَبَانَا لَفِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنِ সূরা ইউসূফ আয়াত নং 8 অনুবাদ যখন তারা বলল, নিশ্চয়ই ইউসুফ ও তার ভাই আমাদের পিতার নিকট আমাদের চেয়ে অধিক প্রিয়, অথচ আমরা তো একটি শক্তিশালী দল; নিঃসন্দেহে আমাদের পিতা প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে আছেন। اقْتُلُوْا یُوْسُفَ اَوِ اطْرَحُوْهُ اَرْضًا یَّخْلُ لَكُمْ وَجْهُ اَبِیْكُمْ وَ تَكُوْنُوْا مِنْۢ بَعْدِهٖ قَوْمًا صٰلِحِیْنَ ( সূরা ইউসূফ আয়াত নং 9‌ ) অনুবাদ: ইউসুফকে হত্যা করে ফেলো অথবা তাকে কোথাও দূরে কোনো জায়গায় ফেলে দাও, যাতে তোমাদের পিতার মুখ (মনোযোগ) কেবল তোমাদের দিকেই থাকে। এরপর তোমরা সৎ লোক হয়ে যেও। قَالَ قَآىٕلٌ مِّنْهُمْ لَا تَقْتُلُوْا یُوْسُفَ وَ اَلْقُوْهُ فِیْ غَیٰبَتِ الْجُبِّ یَلْتَقِطْهُ بَعْضُ السَّیَّارَةِ اِنْ كُنْتُمْ فٰعِلِیْنَ সূরা ইউসূফ আয়াত নং 10, অনুবাদ তাদের মধ্যে একজন বলল, ইউসুফকে হত্যা করো না, বরং তাকে কোনো অন্ধ কূপে ফেলে দাও, যাতে কোনো পথিক এসে তাকে নিয়ে যায় যদি তোমাদের কিছু করতেই হয়। এই আয়াতের সারমর্ম হল সূরা ইউসুফের এই তিনটি আয়াতে হিংসা যে কতটা ভয়ংকর ও ধ্বংসাত্মক হতে পারে, তার একটি জীবন্ত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। হযরত ইউসুফ علیہ السلام এর ভাইয়েরা শুধুমাত্র পিতার অধিক ভালোবাসা সহ্য করতে না পেরে তাঁকে হত্যা বা দূরবর্তী স্থানে ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে বসে। এটি ছিল হিংসা, ঈর্ষা, এবং আত্মপ্রবঞ্চনার একটি চরম উদাহরণ। এই ঘটনার মাধ্যমে আমরা শিক্ষা পাই হিংসা মানুষকে বিচারবুদ্ধি ও ইনসাফ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। পরিবার, সমাজ, এমনকি ধর্মীয় মূল্যবোধও হিংসার কারণে বিপন্ন হতে পারে। শয়তান হিংসার মাধ্যমে মানুষকে ধাপে ধাপে গুনাহের দিকে নিয়ে যায়। কেউ ভালোর পথে ডাকলেও হিংসার পরিবেশে ন্যায়ের কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায় হিংসা থেকে বাঁচো কারণ এটা শুধু পাপ নয়, এটা ধ্বংসের রাস্তাও। হিংসা সম্পর্কে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم এর বাণী ‏‏‏‏‏‏ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ‏‏‏‏‏‏أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ‏‏‏‏‏‏قَالَ:‏‏‏‏ إِيَّاكُمْ وَالْحَسَدَ فَإِنَّ الْحَسَدَ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ، ‏‏‏‏‏‏أَوْ قَالَ:‏‏‏‏ الْعُشْبَ অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (رضی اللہ تعالیٰ عنہ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন তোমরা হিংসা থেকে দূরে থাকো, কারণ হিংসা নেক আমলসমূহকে এমনভাবে ধ্বংস করে দেয়, যেমন আগুন শুকনো কাঠকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। অথবা হুজুর (صلی اللہ تعالیٰ علیہ وآلہ وسلم বলেছেন ঘাস কে (সুনান আবু দাউদ শরীফ হাদীস: ৪৯০৩) এই হাদিসের সারমর্ম হল: হিংসা মানুষের এমন একটি অভ্যন্তরীণ ব্যাধি, যা কারো উপকার তো করেই না, বরং নিজের অর্জিত পুণ্যকেও ধ্বংস করে দেয়। এ জন্য ইসলাম হিংসাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এর থেকে বাঁচতে নির্দেশ দিয়েছে। এবং আরেক জায়গায় বলেছেন عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ أَنَّ مَوْلَى الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ أَنَّ الزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ : دَبَّ إِلَيْكُمْ دَاءُ الأُمَمِ قَبْلَكُمْ : الْحَسَدُ وَالبَغْضَاءُ هِيَ الْحَالِقَةُ، لَا أَقُولُ تَحْلِقُ الشَّعْرَ وَلَكِنْ تَحْلِقُ الدِّينَ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ! ٢٥١٠ لَا تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَفَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِمَا يُثَبِّتُ ذَلِكَ لَكُمْ : أَفْشُوا السَّلام بَيْنَكُمْ ইয়াঈশ ইবনুল ওয়ালিদ থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন জুবাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর একজন মুক্ত দাস তাঁকে জানালেন যে, জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে পূর্ববর্তী উম্মতগুলোর রোগ ছড়িয়ে পড়েছে সেটি হলো হিংসা ও পারস্পরিক বিদ্বেষ। এটি হলো ‘মুণ্ডনকারী’; আমি বলছি না যে এটি চুল মুন্ডন করে, বরং এটি দ্বীনকে মুন্ডন (ধ্বংস) করে দেয়। শপথ আল্লাহর, যার হাতে আমার প্রাণ তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসা না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব যা তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি ও স্থায়ী করবে তাহলে তোমরা একে অপরের মধ্যে সালাম ছড়িয়ে দাও।” আর এক জায়গায় হুজুর صلی اللہ تعالیٰ علیہ وآلہ وسلم ইরশাদ করেছেন عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الحَدِيثِ، وَلاَ تَحَسَّسُوا، وَلاَ تَجَسَّسُوا، وَلاَ تَنَاجَشُوا، وَلاَ تَحَاسَدُوا، وَلاَ تَبَاغَضُوا، وَلاَ تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا অনুবাদ: আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন সন্দেহ করা থেকে দূরে থাকো কারণ সন্দেহ অনেক সময় মিথ্যা হয়ে যায়। তোমরা কারো গোপন কথা জানার চেষ্টা করো না, গুপ্তচরিও করো না। দাম বাড়ানোর জন্য একে অন্যের সঙ্গে ধোঁকা দিও না। তোমরা একে অপরের হিংসা কোরো না, পরস্পরকে ঘৃণা কোরো না, একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন কোরো না। তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে থেকো। ওলামায়ে কেরাম ও মুফতিগণ হিংসার ব্যাপারে কি বলেন بعض مشايخنا رحمهم الله تعالى قالوا : الحسد المذكور المذموم أن يرى على غيره نعمة فيتمنى زوال تلك النعمة عن ذلك الغير ( ফতোয়ায়ে আলমগিরি 5 খন্ড 442 পৃষ্ঠা) আমাদের কিছু মাশায়েখ (رحمہم اللہ تعالی) বলেছেন: নিন্দিত হিংসা হলো; কারো উপর কোনো নেয়ামত (আল্লাহর অনুগ্রহ) দেখে, সেই নেয়ামতটি ঐ ব্যক্তির কাছ থেকে দূর হয়ে যাবার আকাঙ্ক্ষা করা। وكان شيخ الإسلام يقول: لو تمنى تلك النعمة بعينها لنفسه فهو حرام مذموم أما إذا تمنى مثل ذلك لنفسه فلا بأس به وذكر شمس الأئمة السرخسي رحمه الله تعالى أنه قال : معنى الحديث أن الحسد مذموم يضر الحاسد إلا فيما استثنى فهو محمود في ذلك فإنه ليس يحسد على الحقيقة بل غبطة والحسد أن يتمنى الحامد أن تذهب نعمة المحسود عنه ويتكلف لذلك ويعتقد أن تلك النعمة في غير موضعها ومعنى الغبطة أن يتمنى لنفسه مثل ذلك من غير أن يتكلف ويتمنى ذهاب ذلك عنه كذا في المحيط، مدح الرجل على ثلاثة أوجه الأول : أن يمدح في وجهه وهذا الذي نهى عنه، والثاني : أن يمدحه بغير حضرته ويعلم أنه يبلغه فهذا أيضا منهي عنه، والثالث : أن يمدحه في حال غيبته وهو لا يبالي أن يبلغه أو لم يبلغه لا يمدحه بما هو فيه فهذا لا بأس به كذا في الغرائب. والله أعلم. আর শাইখুল ইসলাম (رحمه الله) বলতেন: যদি কেউ নির্দিষ্ট সেই নিয়ামতটিই নিজের জন্য চাই, তবে তা হারাম ও নিন্দনীয়। কিন্তু যদি নিজের জন্য তেমনই (অনুরূপ) নিয়ামত চায়, তবে তাতে কোনো দোষ নেই। আর শামসুল আইম্মা আস-সারাখসি (رحمه الله تعالى) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: হাদিসের অর্থ হলো হিংসা নিন্দনীয় এবং হিংসুকের ক্ষতি ডেকে আনে; তবে যে অবস্থা এর ব্যতিক্রম, তাতে তা প্রশংসনীয়, কারণ এটি প্রকৃত অর্থে হিংসা নয়, বরং ‘গিবতা’। হিংসা হলো হিংসুক চাইবে যে হিংসিতের নিয়ামত চলে যাক এবং সে জন্য চেষ্টা করবে এবং মনে করবে যে নিয়ামতটি ভুল জায়গায় আছে। আর গিবতা হলো নিজের জন্যও তেমন নিয়ামত কামনা করা কিন্তু সে জন্য চেষ্টা না করা এবং এই ইচ্ছাও না করা যে নিয়ামতটি তার কাছ থেকে চলে যাক। আল-মুহীত গ্রন্থেও এ কথাই আছে। মানুষের প্রশংসা তিনভাবে হয়ে থাকে প্রথম: তার মুখের সামনে প্রশংসা করা, যা থেকে নিষেধ এসেছে। দ্বিতীয়: অনুপস্থিতিতে তার প্রশংসা করা এবং জানে যে এ কথা তার কাছে পৌঁছবে এটিও নিষিদ্ধ। তৃতীয়: অনুপস্থিতিতে তার প্রশংসা করা এমনভাবে যে সে পরোয়া করে না তা তার কাছে পৌঁছবে কি না, এবং এমন কোনো বিষয়ে প্রশংসা না করা যা তার মধ্যে নেই তাতে কোনো অসুবিধা নেই। আল-গরায়িব গ্রন্থেও এ কথাই আছে। হিংসার কারণ ও হিংসার ক্ষতি ও হিংসা থেকে মুক্তির উপায় হিংসার কারণ 1. শত্রুতা ও বিদ্বেষ কারও প্রতি ব্যক্তিগত রাগ বা প্রতিশোধের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। 2. অহংকার, নিজের মর্যাদাকে অতি উচ্চ মনে করা। 3. তাকাব্বুর (গর্ব) নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবা। 4. হীনমন্যতা নিজেকে অন্যদের তুলনায় কম মূল্যবান মনে করা। 5. প্রিয় বিষয় হারানোর ভয় অন্যের প্রাপ্ত ভালো জিনিস দেখে নিজের ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা। 6. প্রভাব বা পদ হারানোর আশঙ্কা। 7. অন্তরের অসৎ প্রবৃত্তি (হৃদয়ের বিশ্বাসঘাতকতা)। হিংসার ক্ষতি 1. আল্লাহ ও রাসুল ﷺ-এর অসন্তুষ্টি লাভ। 2. ঈমান বিনষ্ট হওয়া বা দুর্বল হয়ে পড়া। 3. সৎকর্ম বিনষ্ট হওয়া। 4. বিভিন্ন গুনাহে লিপ্ত হওয়া। 5. সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়া। 6. দোয়া কবুল না হওয়া। 7. আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত হওয়া। 8. অপমান ও লজ্জা ভোগ করা। 9. সঠিকভাবে চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলা। 10. অন্যায়কর্মে লিপ্ত হওয়া। 11. জাহান্নামের শাস্তির মুখোমুখি হওয়া। হিংসা থেকে মুক্তির উপায় 1. আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা অন্তর থেকে হিংসা দূর করার জন্য। 2. শুকরিয়া আদায় করা আল্লাহ যা দিয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকা। 3. হিংসার পরিবর্তে শুভকামনাকরা, কারো ভালো দেখে তার ক্ষতি নয়, বরং নিজের জন্যও তেমন কল্যাণ কামনা করা। 4. পরকালের শাস্তি স্মরণ রাখা হিংসা যে গুনাহ ও শাস্তির কারণ, তা মনে রাখা। 5. তাওবা ও ইস্তেগফার করা মনে হিংসা আসলেই সাথে সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করা। 6. সৎকর্ম করা যাঁর প্রতি হিংসা, তাঁর জন্য দোয়া করা ও ভালো আচরণ করা। 7. সৎ সঙ্গ গ্রহণ করা হিংসা উসকে দেয় এমন সঙ্গ এড়িয়ে চলা। হে আল্লাহ! আমাদের মন থেকে হিংসা, রাগ, ঈর্ষা আর সব খারাপ চিন্তা দূর করে দিন। আমাদের এমন মন দিন, যা শুধু ভাই বোনের ভালো চায়, মন্দ নয়। আমাদের তাওফিক দিন, যেন আমরা অন্যের পাওয়া সুখ দেখে খুশি হই, কষ্ট না পাই। হে আল্লাহ! সব মুসলমানকে হিংসা, রাগ এর সব রোগ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন, আর আমাদের মনকে ঈমান, ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্বে ভরে দিন।

Comments -

Most Read Articles