KeyOfIslam
Welcome To KeyOfIslam.com. KeyOfIslam is the platform to spread love and brotherhood among all people through the light of Prophet Mohammad(peace be upon him), the Final Messanger of Allah. Here you will get informations with precision.
Individual Articles
চুগলি কি ও চুগলখোরের শাস্তি কি?
চুগলি কি ও চুগলখোরের শাস্তি কি? লেখক: মাওলানা ইসমাইল শেখ মিসবাহী মুরারই, বীরভূম। অক্টোবর ২০২৫ ভূমিকা: চুগলি কি? চুগলি (আরবিতে: نَمِيْمَة ) হচ্ছে এক ব্যক্তির কথা অন্য ব্যক্তির নিকট এমনভাবে বলা যার ফলে দু’জনের মাঝে বিবাদ, শত্রুতা বা ফিতনা সৃষ্টি হয়। এটি সমাজ ধ্বংসকারী একটি মারাত্মক ব্যাধি। চুগলি হচ্ছে গীবতের চেয়েও জঘন্য কারণ এতে শুধু কারো পেছনে বদনাম করাই নয়, বরং তা অন্যদের মধ্যে মনোমালিন্য ও বিভেদ সৃষ্টি করে। চুগলখোর কাকে বলা হয়? যে ব্যক্তি মানুষের কথাবার্তা একজায়গা থেকে আরেক জায়গায় বলে বেড়ায়, যার উদ্দেশ্য হয় সম্পর্ক নষ্ট করা বা বিবাদ লাগানো—তাকে চুগলখোর বা নম্মাম বলা হয়। কোরআনে চুগলি সম্পর্কে বিধান: (١)وَلَا تُطِعۡ كُلَّ حَلَّافࣲ مَّهِینٍ هَمَّازࣲ مَّشَّاۤءِۭ بِنَمِیمࣲ. (১)অনুবাদ: এবং এমন কারো কথা শুনবেন না যে বড় বড় শপথ কারী, লাঞ্ছিত,খুব নিন্দুক, এদিকের কথা ওদিকে লাগিয়ে বিচরণকারী। (সূরা আল ক্বালাম আয়াত নম্বর - ১০ ও ১১) শব্দ বিশ্লেষণ: অতিরিক্ত শপথকারী = حَلَّافٍ مَهِينٍ = মর্যাদাহীন, নীচ, অপমানজন স্বভাবের তাফসীর: এখানে বোঝানো হচ্ছে, এমন লোকদের অনুসরণ করো না যারা মিথ্যা কথা প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার শপথ করে, কারণ এসব লোক দুর্বল মানসিকতা ও নীচ চরিত্রের। শব্দ বিশ্লেষণ: هَمَّاز = গীবতকারী, অপবাদ দানকারী লোকদের অপমান করে। তাফসীর: এই শব্দটি এমন লোকদের বোঝায় যারা অন্যের পেছনে নিন্দা করে, গীবত করে, অপমান করে। কেউ কেউ বলেছেন, হাত বা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তিরস্কার করে—যেমন চোখ রোল করা, ভ্রু কুঁচকানো ইত্যাদি। শব্দ বিশ্লেষণ: مَّشَّاۤءِ = হাটাহাটি করে বেড়ানো بِنَمِیمࣲ = চুগলি, পরনিন্দা, ফেৎনা ছড়ানো তাফসীর: এই শব্দটি বোঝায় এমন লোকদের যারা মানুষের মাঝে ফেৎনা সৃষ্টি করে, একের গোপন কথা অপরের কাছে বলে, সম্পর্ক নষ্ট করে। ইবনে আব্বাস বলেছেন: এটি এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যে মিথ্যা ছড়িয়ে বেড়ায়। আয়াতগুলো ও তাফসীর অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখাচ্ছেন যে, (১) আমরা যেন মিথ্যাবাদীদের অনুসরণ না করি। (২) আমরা যেন ধর্মীয় নীতিতে কোনো ধরনের আপস না করি। (৩) মিথ্যা শপথকারীদের, গীবতকারীদের ও চুগলি করা লোকদের সঙ্গ বা অনুসরণ না করি। এই আয়াতগুলো ও ব্যাখ্যা সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে নৈতিকতার খুবই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাদান করে, যা মুসলমানদের চরিত্র গঠনের মৌলিক দিক। (٢)وَیۡلࣱ لِّكُلِّ هُمَزَةࣲ لُّمَزَةٍ. (২)অনুবাদ: ধ্বংস ওই ব্যক্তির জন্য, যে লোক সম্মুখে বদনামি করে এবং পৃষ্ঠ- পিছনে নিন্দা করে। ( সূরা হুমাযাহ আয়াত -১) "وَيْلٌ" – এর অর্থ: ইমাম তাবারী বলেন, "ويل" বলতে বোঝানো হয়েছে জাহান্নামের এক ভয়ানক উপত্যকা, যা জাহান্নামীদের পুঁজ ও রক্তে পরিপূর্ণ থাকবে। আবার কারও মতে, এটি একটি সাধারণ ধ্বংস ও আজাবের ঘোষণাও হতে পারে। এর ব্যাখ্যা= "هُمَزَةٍ" ও "لُمَزَةٍ" হুমাযা (هُمَزَة): যিনি মানুষকে সামনে থেকে অপমান করে, তিরস্কার করে, অথবা চোখ, মুখ, হাত ইত্যাদির ইশারায় উপহাস করে। লুমাযা (لُمَزَة): যিনি পেছনে গীবত করেন, বদনাম করেন, অপবাদ ছড়ান, বা দোষ খোঁজেন। ইমাম তাবারী বিভিন্ন তাবিঈ ও সাহাবীদের থেকে উদ্ধৃত করে বলেন: (১) হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেছেন: হুমাযা-লুমাযা হচ্ছে সেইসব লোক, যারা গীবত করে, অপবাদ দেয়, ও বন্ধুদের মধ্যে ফাটল ধরায়। (২)মুজাহিদ ও ক্বাতাদাহ রহিমাহুমাল্লাহ বলেন: হুমাযা মানে গীবতকারী, লুমাযা মানে দোষারোপকারী। আবার কেউ বলেন: হুমাযা ইশারায় হেয়কারী, লুমাযা জিহ্বায় অপবাদ দানকারী। (৩)কেউ কেউ বলেন: সামনে কটুক্তি করলে তাকে হুমাযা বলে, আর পেছনে করলে লুমাযা। (৪) কারও মতে: এই আয়াত কারো একক উদ্দেশ্যে নাযিল হয়েছে (যেমন: জামিল ইবনু আমর বা আখনাস ইবনে শুরাইক)। (৫) কিন্তু ইমাম তাবারীর মতে সবচেয়ে সঠিক ব্যাখ্যা হলো: এই আয়াত প্রতিটি যুগের, প্রতিটি মানুষের জন্য যারা এই গুণে গুণান্বিত। অর্থাৎ, প্রত্যেক গীবতকারী, দোষচারী, অপবাদ দানকারীর জন্য এই ধ্বংস বা শাস্তির ঘোষণা। (٣)إِنَّمَا جَزَ ٰ⁠ۤؤُا۟ ٱلَّذِینَ یُحَارِبُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَیَسۡعَوۡنَ فِی ٱلۡأَرۡضِ فَسَادًا أَن یُقَتَّلُوۤا۟ أَوۡ یُصَلَّبُوۤا۟ أَوۡ تُقَطَّعَ أَیۡدِیهِمۡ وَأَرۡجُلُهُم مِّنۡ خِلَـٰفٍ أَوۡ یُنفَوۡا۟ مِنَ ٱلۡأَرۡضِۚ ذَ ٰ⁠لِكَ لَهُمۡ خِزۡیࣱ فِی ٱلدُّنۡیَاۖ وَلَهُمۡ فِی ٱلۡـَٔاخِرَةِ عَذَابٌ عَظِیمٌ. (৩)অনুবাদ: যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সঙ্গে যুদ্ধ করে এবং দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে ব্যস্ত থাকে, তাদের শাস্তি এ ছাড়া কিছু নয় যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে, অথবা শূলীতে চড়ানো হবে, অথবা তাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কাটা হবে, অথবা তাদের দেশ থেকে নির্বাসন দেওয়া হবে। এটা তাদের জন্য দুনিয়ার লাঞ্ছনা, আর আখিরাতে আছে তাদের জন্য বড় শাস্তি। (সূরা আল মায়েদা আয়াত -৩৩) ইমাম তাবারী রহিমাহুল্লাহ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "فَسَادًا" (ফাসাদ) বলতে বোঝানো হয়েছে: (১)খুন করা। (২)ডাকাতি করা। (৩)রাস্তায় লোকজনকে আতঙ্কিত করা। (৪)নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা। (৫)লুটতরাজ ও সন্ত্রাস ছড়ানো। (৬)আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করা এবং মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। ~ এরা এমন লোক, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং সমাজে শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে। ~ তারা মানুষের জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা ধ্বংস করে, যা আল্লাহ কঠোরভাবে হারাম করেছেন। এই আয়াত থেকে মানবজাতির জন্য শিক্ষা: (১) সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা ফরয যারা এটিকে ধ্বংস করে, তারা আল্লাহর দৃষ্টিতে মহা অপরাধী। (২)সন্ত্রাস, দাঙ্গা, ডাকাতি, হত্যা, বিশৃঙ্খলা এগুলো শুধু সামাজিক অপরাধ নয়, বরং আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। (৩) আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা ও অন্যের হক রক্ষা করা – ইসলামের মৌলিক নৈতিক শিক্ষা। (৪)রাষ্ট্র বা ইসলামি শরিয়াহর পক্ষে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা জরুরি, যেন অপরাধীরা দমিত হয় এবং সমাজ নিরাপদ থাকে। (৫)শান্তি রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একজন মুসলিমের দায়িত্ব। (٤)یَـٰۤأَیُّهَا ٱلَّذِینَ ءَامَنُوا۟ ٱجۡتَنِبُوا۟ كَثِیرࣰا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعۡضَ ٱلظَّنِّ إِثۡمࣱۖ وَلَا تَجَسَّسُوا۟ وَلَا یَغۡتَب بَّعۡضُكُم بَعۡضًاۚ أَیُحِبُّ أَحَدُكُمۡ أَن یَأۡكُلَ لَحۡمَ أَخِیهِ مَیۡتࣰا فَكَرِهۡتُمُوهُۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ تَوَّابࣱ رَّحِیمࣱ (৪)অনুবাদ: হে ঈমানদারগণ! অনেক অনুমান (গুপ্ত ধারণা) থেকে বেঁচে থাকো, নিশ্চয়ই কিছু অনুমান গুনাহ — এবং গুপ্তচরবৃত্তি কোরো না এবং তোমাদের কেউ যেন কারও গীবত না করে। তোমাদের কেউ কি পছন্দ করে যে, সে তার মৃত ভাইয়ের মাংস খাবে? তবুও তোমরা তো একে ঘৃণা করো! আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। (সূরা হুজরাত আয়াত -১২) এই আয়াতের মাধ্যমে মুসলমানদের প্রতি আল্লাহ তাআলা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন: (১)অনুমান ও সন্দেহ থেকে বেঁচে থাকা: কারণ অনেক সময় আমাদের করা সন্দেহ ভিত্তিহীন হয়ে গুনাহে পরিণত হয়। (২)গুপ্তচরবৃত্তি নিষিদ্ধ: অন্যের গোপন দোষ খোঁজা ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ। (৩) গীবত থেকে বিরত থাকা: গীবত এতই নিকৃষ্ট কাজ যে, তার তুলনা করা হয়েছে মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার মতো জঘন্য কিছুর সঙ্গে। এগুলো সমাজে সম্পর্ক নষ্ট করে এবং পরস্পরের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। তাই আল্লাহ তাআলা শেষে তাওবার দিকে আহ্বান করছেন এবং বলেছেন, তিনি গুনাহগারদের ক্ষমা করে দেন। (٥)یَـٰۤأَیُّهَا ٱلَّذِینَ ءَامَنُوۤا۟ إِن جَاۤءَكُمۡ فَاسِقُۢ بِنَبَإࣲ فَتَبَیَّنُوۤا۟ أَن تُصِیبُوا۟ قَوۡمَۢا بِجَهَـٰلَةࣲ فَتُصۡبِحُوا۟ عَلَىٰ مَا فَعَلۡتُمۡ نَـٰدِمِینَ. (৫)অনুবাদ: হে ঈমানদারগণ! যদি কোনো ফাসিক (পাপী) তোমাদের নিকট কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে দেখো, যেন তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়কে আঘাত না করে ফেলো, অতঃপর যা করেছো তার জন্য লজ্জিত না হও। (সূরা হুজরাত আয়াত -৬) আয়াতের কারণ: এই আয়াতটি উপস্থিতি ও নির্ভরযোগ্যতা ছাড়া খবর গ্রহণে সতর্কতা সম্পর্কে নাজিল হয়। ঘটনার পটভূমি: রাসূলুল্লাহ ﷺ একবার বনি মুস্তালিক গোত্রের নিকট যাকাত গ্রহণের জন্য একজন সাহাবী, ওয়ালিদ বিন উকবা ইবনে আবি মুয়ীত–কে পাঠান। এ গোষ্ঠীটি ইসলামে নতুন দীক্ষিত ছিল এবং তারা খুশিতে তাঁর আগমন উপলক্ষে বের হয়ে আসে। কিন্তু ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু তাকে দেখে ভয় পান এবং ভুলভাবে মনে করেন যে তারা হয়ত তাঁকে আক্রমণ করতে এসেছে। সে ফিরে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলে, তারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে এবং বিদ্রোহ করেছে। এর ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সামরিক অভিযান প্রস্তুত করতে থাকেন, কিন্তু তখন ওই গোত্রের লোকেরা নিজেরাই এসে বলল "আমরা তো তোমার রাসূলকে সম্মান জানাতে গিয়েছিলাম!" এই আয়াত মানুষকে শেখায়: * সমাজে যখন গুজব, অভিযোগ, বা সংবাদ ছড়ায় তখন ধৈর্য ও বিচারবোধ দিয়ে সত্য যাচাই করা ফরয। * মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে তথ্য যাচাই করা, যেন আমরা কারও বিরুদ্ধে অবিচার না করি এবং পরকালে অনুতপ্ত না হই। হাদিসে চুগলখোরের বিধান: (١)حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ حُذَيْفَةَ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ رَجُلاً يَرْفَعُ الْحَدِيثَ إِلَى عُثْمَانَ‏.‏ فَقَالَ حُذَيْفَةُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَتَّاتٌ ‏"‏‏.‏ অনুবাদ: হজরত হুযাইফাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু,হতে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, চোগলখোর কক্ষনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। [মুসলিম ১/৪৫, হাঃ ১০৫, আহমাদ ২৩৩০৭ বুখারী শরীফ ৬০৫৬] (٢)حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ ‏"‏ إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ، وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ لاَ يَسْتَتِرُ مِنَ الْبَوْلِ، وَأَمَّا الآخَرُ فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ ‏"‏‏.‏ ثُمَّ أَخَذَ جَرِيدَةً رَطْبَةً، فَشَقَّهَا نِصْفَيْنِ، فَغَرَزَ فِي كُلِّ قَبْرٍ وَاحِدَةً‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، لِمَ فَعَلْتَ هَذَا قَالَ ‏"‏ لَعَلَّهُ يُخَفَّفُ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا ‏"‏‏.‏ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى وَحَدَّثَنَا وَكِيعٌ قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا مِثْلَهُ ‏"‏ يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ‏. অনুবাদ: ইবনু আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা দুইটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তিনি বললেনঃ এদের ‘আযাব দেয়া হচ্ছে, কোন গুরুতর অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব হতে সতর্ক থাকত না। আর অপরজন চোগলখোরী করে বেড়াত। তারপর তিনি একখানি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে ভেঙ্গে দু’ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরের উপর একখানি গেড়ে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কেন এমন করলেন? তিনি বললেনঃ  আশা করা যেতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু’টি শুকিয়ে না যায় তাদের আযাব কিছুটা হালকা করা হবে। ইবনুল মুসান্না রাহিমাহুল্লাহ আ‘মাশ রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ আমি মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ হতে অনুরূপ শুনেছি। সে তার পেশাব হতে সতর্ক থাকত না।[বুখারী শরীফ ২১৮ সহীহ মুসলিম ২৯২] (٣) كَفى بالمَرْءِ كَذِبًا أنْ يُحَدِّثَ بكُلِّ ما سَمِعَ. *অনুবাদ:*যে ব্যক্তি যা যা শুনে তা বলে, সে নিজেই মিথ্যাবাদী। (সহীহ মুসলিম -৫ আবু দাউদ শরীফ ৪৯৯২) তৃতীয় অধ্যায়: ইমাম ও সালাফদের উক্তি (১)ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেন: النميمة من الكبائر — চুগলি এক বড় গুনাহ (২)ইমাম গাযযালী রহমাতুল্লাহ বলেন: চুগলি হল কথার মাধ্যমে সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করা। চতুর্থ অধ্যায়: চুগলির ক্ষতি ও প্রভাব (১)সমাজে ফিতনা, শত্রুতা সৃষ্টি (২) আল্লাহর গজব, কবরেও শাস্তি (৩)জান্নাত থেকে বঞ্চনা (৪) ব্যক্তিগত চরিত্রহানি ও সম্পর্ক নষ্ট (৫)চুগলির কাজ শয়তানের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। উপসংহার চুগলি (নমীমাহ) ইসলামে অত্যন্ত মারাত্মক গুনাহ। কুরআনের আয়াত গুলিতে একে অপছন্দনীয় ও সমাজবিরোধী কাজ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদীস বিষয়গুলো—চুগলখোরের জান্নাতে প্রবেশ বন্ধ, কবরের শাস্তি, এবং ফিতনা ছড়ানো সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য। সালাফ ও আলেমগণ একে মহান আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সুতরাং, মুসলিম সমাজে চুগলি না ছড়িয়ে দেওয়া এবং যারা ছড়ায় তাদেরকে থামানো সামাজিক ও আল্লাহর নির্দেশ। প্রার্থনা: "চুগলি" এক ভয়ানক ও নিন্দনীয় কাজ। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে এই মন্দ কাজ থেকে হেফাজত করেন। আমরা যেন কারো কথায় চুগলি না করি, আর কারো চুগলির শিকারও না হই। মহান আল্লাহর দরবারে আমরা এই দোয়া করি—তিনি যেন আমাদের এমন শক্তি ও তৌফিক দান করেন, যাতে আমরা সর্বদা সৎপথে চলতে পারি, একে অপরের কল্যাণে কাজ করি, মানুষের ভালো দিকগুলো তুলে ধরি, এবং কারো পেছনে কু-মন্তব্য বা অপপ্রচার না করি। আমরা যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে আত্মনিয়োগ করি এবং দুনিয়াতে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে পারি। আমীন।

Comments -

Most Read Articles