"حَضَرَ المجلسَ: شَهِدَهُ وكان فيه." অর্থাৎ, কাউকে কোনো সভায় উপস্থিত বললে বোঝায়, সে সেখানে ছিল এবং অংশ নিয়েছে। 📚 (المعجم الوسيط, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬০) নাযির শব্দের অর্থ. মুফরাদাত আল-কুরআন (مفردات القرآن)-এ লেখা আছে: > "النظر: تقليب البصر والبصيرة لإدراك الشيء... وقد يُستعمل بمعنى الانتظار أو التوجّه أو الرحمة." অর্থ: নযর মানে কোনো জিনিস উপলব্ধি করার জন্য দৃষ্টিতে বা অন্তরে চিন্তা করা। এ শব্দটি প্রতীক্ষা, মনোযোগ, বা দয়া অর্থেও ব্যবহৃত হয়। 📚 (المفردات, শব্দমূল: نظر) আল-মুয়জামুল-ওসীত-এ বলা হয়েছে: > "الناظر: من يقوم بالإشراف على أمر أو تدبیره." অর্থাৎ, নাযির সে ব্যক্তি, যে কোনো বিষয়ে তত্ত্বাবধান বা পরিকল্পনা করে। 📚 (المعجم الوسيط, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯৬১) অন্যান্য অভিধানে যেমন আল-মুনজিদ, মুখতারুস সাহাহ ইত্যাদিতে হাযির শব্দের অর্থ দেওয়া হয়েছে – নিকটবর্তী, উন্মুক্ত জায়গা, যে বস্তু চোখের সামনে স্পষ্ট দেখা যায়। আর নাযির শব্দের অর্থ দেওয়া হয়েছে – চোখের কণিকায় কালো অংশ। নযর অর্থ – চিন্তা করা, পর্যালোচনা করা, কোনো বস্তুকে লক্ষ্য করে দেখা। তাই এই সব অর্থের আলোকে বোঝা যায়, আল্লাহ্‌ তা‘আলা এসব শব্দ থেকে পবিত্র। কোনো রকম ব্যাখ্যা বা ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে এই শব্দগুলো আল্লাহ্‌র জন্য ব্যবহার করা যাবে না। সুতরাং আস্মা-উল-হুসনা অর্থাৎ আল্লাহ্‌র সুন্দর নামসমূহে হাযির ও নাযির নেই। কুরআন-হাদীসে এই শব্দগুলো আল্লাহ্‌র জন্য ব্যবহৃত হয়নি এবং সাহাবা, তাবেইন, কিংবা ইমামগণও এই শব্দ আল্লাহ্‌র জন্য ব্যবহার করেননি. ফুকহায়ে কেরামগণের মত মুফতী জালালউদ্দিন আহমদ আমজদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: > “যদি কেউ হাযির ওনাযির(حاضر, ناظر )শব্দ দ্বারা শাহীদ ও বাসির (شهيد ,بصير) অর্থ বোঝায়, অর্থাৎ — আল্লাহ্‌র সামনে সবকিছু রয়েছে এবং তিনি সবকিছু দেখেন, তবে এ বিশ্বাস সঠিক। কিন্তু এই বিশ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে আল্লাহ্‌ সম্পর্কে হাযির ও নাযির শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে কেউ এসব শব্দ ব্যবহার করলেও সে কাফির হবে না।” 📚 (فتاوی فیض الرسول, খণ্ড ৩/১) মুফতী শরীফুল হক আমজদী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন: > “যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ তায়ালা কে হাযির ও নাযির বলে, সে কাফির নয়, তবে তা বলা নিষিদ্ধ। কারণ, আল্লাহ্‌র নামসমূহ তাওকীফি, অর্থাৎ কুরআন ও হাদীসে যেসব নাম ব্যবহার হয়েছে, কেবল সেগুলোর ব্যবহার বৈধ। অন্য নাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।” 📚 (فتاوی شارح بخاری, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩০৫) আল-দুররুল মুখতার ও রদুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে: > "یا حاضر یا ناظر لیس یکفر" অর্থ: “হাযির ও নাযির ” বলা কুফরি নয়। 📚 (দুরর মুখতার, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৫৯) --- ইমাম আহলে সুন্নত, ইমামে ইশকে মোহাব্বত আল্লামা আহমদ রেযা খান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি- কে এই ধরনের এক প্রশ্ন করা হয় যে > “আল্লাহ্‌কে সর্বত্র হাযির বলা কি ঠিক?” আর তিনি এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন যে: “আল্লাহ্‌ তাআলা স্থান থেকে পবিত্র। ‘হাযির’ শব্দটি খারাপ অর্থের শঙ্কা রাখে। তাই এটি পরিহার করা ফরজ।” (📚 ফতোয়ায়ে রাযবিয়া, খন্ড নাম্বার 14 পৃষ্ঠা নম্বর640) একই খণ্ডের পৃষ্ঠা ৬৮৮–৬৮৯-এ বলেন: > “আল্লাহ্‌ তায়ালা( শাহিদ বাসির) شهيد وبصير — তাই তাঁকে হাযির ও নাযির বলা উচিত নয়। এমনকি কিছু আলেম এ বিষয়ে তকফির (কুফরি ফতোয়া) দেওয়ার কথাও বলেছেন এবং পরবর্তীতে সিনিয়ার আলেমদের পক্ষ থেকে তা নাকচ করা হয়েছে।” মাজমুয়া আল্লামা ইবনে ওহবান-(مجموعہ علامہ ابن وہبان) এর মধ্যে আছে: > "یا حاضر یا ناظر لیس بکفر" অর্থ: “ইয়া হাযির ও নাযির ” বলা কুফরি নয়, তবে এটা ভুল, তাই এ থেকে বিরত থাকা উচিত। 📚 (فتاوی رضویہ, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৬৮৮–৬৮৯) واللہ اعلم بالصواب۔ শেখ নাসির মিসবাহী...." />
KeyOfIslam
Welcome To KeyOfIslam.com. KeyOfIslam is the platform to spread love and brotherhood among all people through the light of Prophet Mohammad(peace be upon him), the Final Messanger of Allah. Here you will get informations with precision.
Individual Articles
আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে হাযির ও নাযির শব্দ ব্যবহার করা কি জায়েয?
প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে হাজির ও নাজির শব্দ ব্যবহার করা কি জায়েজ ? উত্তর : নিশ্চয়ই প্রত্যেক বস্তুই আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে প্রকাশিত এবং তিনি সবকিছু দেখেনও। তবে আল্লাহ্‌ তায়ালার এই গুণসমূহ বর্ণনা করার জন্য “আল্লাহ্‌ তা‘আলার জন্য হাযির ও নাযির (حاضروناظِر) শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। এর প্রথম কারণ হলো, যে এই শব্দ দুটি আল্লাহ্‌ তা‘আলার নামসমূহ (আস্মা-উল-হুসনা) এর মধ্যে নেই। আর দ্বিতীয় কারণ হলো, হাযির ও নাযির শব্দদ্বয়ের আরবি অভিধানে যত অর্থ রয়েছে, তা আল্লাহ্‌ তাআলার শান বা মর্যাদার উপযুক্ত নয়। এই কারণে ওলামায়ে কেরাম বলেন: যে এই শব্দ দুটি আল্লাহ্‌ তা‘আলার জন্য ব্যবহার করা যাবে না, বৈধ নয়। তাই, আল্লাহ্‌ তাআলার এই গুণসমূহ বোঝাতে হাযির ও নাযির শব্দ ব্যবহার না করে বরং শাহিদ ও বসির(شهيد،بصير) বলতে হবে, যেমন আল্লাহ্‌ তাআলা নিজেই ইরশাদ করেছেন: > إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ ( অনুবাদ – কাঞ্জুল ঈমান: নিঃসন্দেহে আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর উপর সাক্ষী। – সূরা হজ্জ, পারা ১৭) অন্য আয়াতে বলেন: > إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌۢ بَصِيرٌ ( অনুবাদ – কাঞ্জুল ঈমান: নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌ শুনেন এবং দেখেন। – সূরা হজ্জ, পারা ১৭) এই কারণে ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে হাযির ও নাযির শব্দের যেসব অর্থ অভিধানে পাওয়া যায়, সেসব অর্থ অনুযায়ী আল্লাহ্‌ তা‘আলার জন্য এ শব্দদ্বয়ের ব্যবহার বৈধ নয়। --- হাযির ও নাযির শব্দের অর্থ. তাজুল উরুস (تاج العروس) নামক বিখ্যাত আরবি অভিধানে বলা হয়েছে: > "الحُضُورُ نقیض الغَیبة، وفلان حاضر: ضد غائب، و قد یُطلق علیٰ من أتی." অর্থাৎ, হাযির (উপস্থিত) হচ্ছে গায়েব (অপ্রস্তুত/অনুপস্থিত)-এর বিপরীত। অমুক ব্যাক্তি হাযির" মানে সে গায়েব নয়। কখনো কখনো এর মানে আগমনকারীও হয়। 📚 (تاج العروس, শব্দমূল: حضر) আল-মুজামুল-ওসীত (المعجم الوسيط) নামক অভিধানে আছে: > "حَضَرَ المجلسَ: شَهِدَهُ وكان فيه." অর্থাৎ, কাউকে কোনো সভায় উপস্থিত বললে বোঝায়, সে সেখানে ছিল এবং অংশ নিয়েছে। 📚 (المعجم الوسيط, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬০) নাযির শব্দের অর্থ. মুফরাদাত আল-কুরআন (مفردات القرآن)-এ লেখা আছে: > "النظر: تقليب البصر والبصيرة لإدراك الشيء... وقد يُستعمل بمعنى الانتظار أو التوجّه أو الرحمة." অর্থ: নযর মানে কোনো জিনিস উপলব্ধি করার জন্য দৃষ্টিতে বা অন্তরে চিন্তা করা। এ শব্দটি প্রতীক্ষা, মনোযোগ, বা দয়া অর্থেও ব্যবহৃত হয়। 📚 (المفردات, শব্দমূল: نظر) আল-মুয়জামুল-ওসীত-এ বলা হয়েছে: > "الناظر: من يقوم بالإشراف على أمر أو تدبیره." অর্থাৎ, নাযির সে ব্যক্তি, যে কোনো বিষয়ে তত্ত্বাবধান বা পরিকল্পনা করে। 📚 (المعجم الوسيط, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯৬১) অন্যান্য অভিধানে যেমন আল-মুনজিদ, মুখতারুস সাহাহ ইত্যাদিতে হাযির শব্দের অর্থ দেওয়া হয়েছে – নিকটবর্তী, উন্মুক্ত জায়গা, যে বস্তু চোখের সামনে স্পষ্ট দেখা যায়। আর নাযির শব্দের অর্থ দেওয়া হয়েছে – চোখের কণিকায় কালো অংশ। নযর অর্থ – চিন্তা করা, পর্যালোচনা করা, কোনো বস্তুকে লক্ষ্য করে দেখা। তাই এই সব অর্থের আলোকে বোঝা যায়, আল্লাহ্‌ তা‘আলা এসব শব্দ থেকে পবিত্র। কোনো রকম ব্যাখ্যা বা ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে এই শব্দগুলো আল্লাহ্‌র জন্য ব্যবহার করা যাবে না। সুতরাং আস্মা-উল-হুসনা অর্থাৎ আল্লাহ্‌র সুন্দর নামসমূহে হাযির ও নাযির নেই। কুরআন-হাদীসে এই শব্দগুলো আল্লাহ্‌র জন্য ব্যবহৃত হয়নি এবং সাহাবা, তাবেইন, কিংবা ইমামগণও এই শব্দ আল্লাহ্‌র জন্য ব্যবহার করেননি. ফুকহায়ে কেরামগণের মত মুফতী জালালউদ্দিন আহমদ আমজদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: > “যদি কেউ হাযির ওনাযির(حاضر, ناظر )শব্দ দ্বারা শাহীদ ও বাসির (شهيد ,بصير) অর্থ বোঝায়, অর্থাৎ — আল্লাহ্‌র সামনে সবকিছু রয়েছে এবং তিনি সবকিছু দেখেন, তবে এ বিশ্বাস সঠিক। কিন্তু এই বিশ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে আল্লাহ্‌ সম্পর্কে হাযির ও নাযির শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে কেউ এসব শব্দ ব্যবহার করলেও সে কাফির হবে না।” 📚 (فتاوی فیض الرسول, খণ্ড ৩/১) মুফতী শরীফুল হক আমজদী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন: > “যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ তায়ালা কে হাযির ও নাযির বলে, সে কাফির নয়, তবে তা বলা নিষিদ্ধ। কারণ, আল্লাহ্‌র নামসমূহ তাওকীফি, অর্থাৎ কুরআন ও হাদীসে যেসব নাম ব্যবহার হয়েছে, কেবল সেগুলোর ব্যবহার বৈধ। অন্য নাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।” 📚 (فتاوی شارح بخاری, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩০৫) আল-দুররুল মুখতার ও রদুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে: > "یا حاضر یا ناظر لیس یکفر" অর্থ: “হাযির ও নাযির ” বলা কুফরি নয়। 📚 (দুরর মুখতার, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৫৯) --- ইমাম আহলে সুন্নত, ইমামে ইশকে মোহাব্বত আল্লামা আহমদ রেযা খান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি- কে এই ধরনের এক প্রশ্ন করা হয় যে > “আল্লাহ্‌কে সর্বত্র হাযির বলা কি ঠিক?” আর তিনি এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন যে: “আল্লাহ্‌ তাআলা স্থান থেকে পবিত্র। ‘হাযির’ শব্দটি খারাপ অর্থের শঙ্কা রাখে। তাই এটি পরিহার করা ফরজ।” (📚 ফতোয়ায়ে রাযবিয়া, খন্ড নাম্বার 14 পৃষ্ঠা নম্বর640) একই খণ্ডের পৃষ্ঠা ৬৮৮–৬৮৯-এ বলেন: > “আল্লাহ্‌ তায়ালা( শাহিদ বাসির) شهيد وبصير — তাই তাঁকে হাযির ও নাযির বলা উচিত নয়। এমনকি কিছু আলেম এ বিষয়ে তকফির (কুফরি ফতোয়া) দেওয়ার কথাও বলেছেন এবং পরবর্তীতে সিনিয়ার আলেমদের পক্ষ থেকে তা নাকচ করা হয়েছে।” মাজমুয়া আল্লামা ইবনে ওহবান-(مجموعہ علامہ ابن وہبان) এর মধ্যে আছে: > "یا حاضر یا ناظر لیس بکفر" অর্থ: “ইয়া হাযির ও নাযির ” বলা কুফরি নয়, তবে এটা ভুল, তাই এ থেকে বিরত থাকা উচিত। 📚 (فتاوی رضویہ, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৬৮৮–৬৮৯) واللہ اعلم بالصواب۔ শেখ নাসির মিসবাহী....

Comments -

Most Read Articles