গৌসে পাকের কিছু নসীহত
بسم الله الرحمن الرحيم
হযরত আব্দুল কাদের জিলানী( رضی اللہ تعالی عنہ) সম্পর্কে কিছু তথ্য : …..
১. তিনার সম্পূর্ণ নাম:- মুহিউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল কাদের ইবনে আবু সালেহ মুসা জিলানী (رضی اللہ تعالی عنہما)।
২. তিনার উপাধি:- তিনার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ উপাধি হলো গাউসুল আ'যম এছাড়াও তিনি পীরানে পীর এবং দস্তগীর নামেও পরিচিত।
৩. তিনার *জন্ম: হিজরী সন ৪৭১ (১০৭৮ খ্রিষ্টাব্দ)।
৪. তিনার * মৃত্যু: হিজরী সন ৫৬১ (১১৬৬ খ্রিষ্টাব্দ)।
৫. তিনার বাবার নাম:- আবু সালেহ মূসা জঙ্গী ( رضی اللہ تعالی عنہ)।
৬. তিনার মায়ের নাম:- উম্মুল খায়ের ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ সাওমায়ি (رضی اللہ تعالی عنہا)।
৭. তিনি পারস্যের (বর্তমান ইরান) এর জিলান শহরের নয়ফ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
৮. তিনি প্রায় ৯০ বছর জীবিত ছিলেন।
৯. তিনার মাজার শরীফ ইরাকের বাগদাদ শহরে অবস্থিত।
১০. হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (رضی اللہ تعالی عنہ) হাসানী ও হুসাইনী উভয় সৈয়দ বংশের ছিলেন।
* তিনার পিতা আবু সালেহ মুসখ জঙ্গী ছিলেন ইমাম হাসান ইবনে আলী (رضی اللہ تعالی عنہم) এর বংশধর।
* তিনার মাতা সাইয়েদা উম্মুল খায়ের ফাতেমা ছিলেন ইমাম হোসাইন ইবনে আলী (رضی اللہ تعالی عنہم) এর বংশধর।
*অর্থাৎ, তিনি হযরত মুহাম্মদ (صلی اللہ تعالی علیہ وسلم)-এর দৌহিত্র হযরত হাসান (رضی اللہ تعالی عنہ) এবং হযরত হোসাইন (رضی اللہ تعالی عنہ) - উভয়ের বংশোদ্ভূত ছিলেন।
*গাউসুল আ'যম আব্দুল কাদের জিলানী (رضی اللہ تعالی عنہ) ইসলামের ইতিহাসে এক মহান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন ।
গৌসে পাকের
অমীয় বাণী
নীতিশাস্ত্র এবং ইতিহাসের বইগুলি তিনার বাণীতে পরিপূর্ণ। এখানে, সাধারণ উপকারের জন্য মাত্র চল্লিশটি অমূল্যবাণী দেওয়া হল।
1. “পৃথিবী থেকে বেরিয়ে যাও এবং একে তোমার হাতে নাও” কারণ পৃথিবী হল কাজের জায়গা। একজন ব্যক্তির কাজ করা উচিত, কিন্তু এই কাজ এবং এর ফলাফলের সাথে সংযুক্ত থাকা উচিত নয়। তার হৃদয় অন্য কোথাও থাকা উচিত। "কাজের উপর হাত, বন্ধুদের উপর হৃদয়” কেই বলা হয় পৃথিবী ত্যাগ করা। 2. সকল গুণের সমষ্টি হলো জ্ঞান শেখা এবং তা অনুশীলন করা, তারপর অন্যদের শেখানো।
3. শুরু করা তোমার কাজ এবং শেষ করা আল্লাহর ।
4. জ্ঞানী ব্যক্তি প্রথমে হৃদয়কে জিজ্ঞাসা করে এবং তারপর মুখ থেকে কথা বলে।
5. যে প্রাচুর্যের জন্য কৃতজ্ঞতা নেই এবং জীবিকার অভাব। যার জন্য ধৈর্য নেই তা ফিতনায় পরিণত হয়।
6. মৃত্যুকে স্মরণ করা আত্মার সমস্ত রোগের ঔষধ।
7. নেক ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ-ই তাদের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে দেই।
8. যে ঘরবাড়ি তৈরি করতে জীবন শেষ করে দিচ্ছো, অন্যরা বসতি স্থাপন করবে আর হিসাব দিবে তুমি ।
9. ওহে উপহাসকারীরা, শীঘ্রই তোমরা তোমাদের উত্তর দেখতে পাবে।
10. বসবাসের যোগ্য ঘর, শরীর ঢেকে রাখার জন্য পোশাক, পেট ভরে রুটি, আর স্ত্রী- এগুলোই দুনিয়া নয়, বরং দুনিয়াদার হলো সেই ব্যক্তি যে দুনিয়ার দিকে মুখ করে এবং আল্লাহর দিকে পিঠ করে।
11. নির্জনে নীরবতা পুরুষত্ব নয়, জনসমক্ষে নীরব থাকো।
12. মুমিন তার পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবকে আল্লাহর কাছে ছেড়ে দেয়, আর মুনাফিক তার টাকা-পয়সা এবং সম্পদের কাছে ছেড়ে দেয়।
13. যারা হাসে তাদের সাথে হাসো না, বরং যারা কাঁদে তাদের সাথে কাঁদো।
14. একজন বিশ্বাসীর( ঈমানদার ব্যক্তি )বয়স যত বাড়ে, তার বিশ্বাস তত শক্তিশালী হয়।
15. কাজ ছাড়া কথা এবং আন্তরিকতা ছাড়া কাজ অগ্রহণযোগ্য।
16. তোমার কর্মকাণ্ড তোমার বিশ্বাসের প্রমাণ, আর তোমার প্রকাশ্য চেহারা তোমার ভেতরের সত্তার লক্ষণ।
17. মুমিনের জন্য, এই পৃথিবী কষ্টের জায়গা এবং পরকাল আরামের জায়গা।
18. দুনিয়াবী মানুষ পৃথিবীর পিছনে ছুটছে, আর দুনিয়া আল্লাহ ওয়ালাদের পিছনে ছুটছে।
19. কথোপকথন শুরু না করার চেষ্টা করুন এবং আপনার কথাকেই উত্তর হতে দিন।
20. যদি ধৈর্য না থাকে, তাহলে দারিদ্র্য এবং অসুস্থতা একটি শাস্তি, কিন্তু যদি ধৈর্য থাকে, তাহলে এটি একটি আশীর্বাদ এবং সম্মান।
21. প্রথমে অজ্ঞতা, তারপর জ্ঞান, তারপর তার উপর কর্ম, তারপর কর্মে আন্তরিকতা এবং হৃদয় থেকে কর্ম।
22. দারিদ্র্যকে মেনে নেওয়া বিরাট (বড়ো) পুরস্কার বয়ে আনে।
23. যার পরিণাম মৃত্যু, তার জন্য কিসের আনন্দ?
24. রহমত নিয়ে কী করবে? রহিমকে নাও।
25. তোমার হৃদয়কে কেবল আল্লাহর জন্য খালি রাখো এবং তোমার সন্তানদের জন্য তোমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত থাকো, কারণ এটিও একটি আদেশ যা মেনে চলতে হবে।
26. আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে ঋণ চান, আর তাঁর বার্তাবহ হলো ভিক্ষুক।
27. অজ্ঞাতনামাকে ভালোবাসো, কারণ এটি খ্যাতির চেয়েও বেশি শান্তি দেয়।
28. ভাঙা কবরগুলিতে গিয়ে ভাবুন,শত শত সুন্দরের মাটি কীভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে।
29. তোমার খারাপ প্রতিবেশীরা ( সঙ্গী ও সাথী) তোমার সবচেয়ে খারাপ ( বড়ো ) শত্রু।
30. অত্যাচারী ব্যাক্তি নির্যাতিতদের দুনিয়া এবং তার নিজের আখেরাত ধ্বংস করে।
31. একজন যোগ্য ভিক্ষুক (নামধারী নয়) হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন বান্দার জন্য প্রেরিত একটি উপহার।
32. তুমি তোমার আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যস্ত, আর তোমার আকাঙ্ক্ষা তোমাকে ধ্বংস করতে ।
33. জিহ্বা দক্ষ হওয়া এবং হৃদয় অজ্ঞ হওয়া কাজে লাগে না।
34. তিন ধরণের প্রাণী আছে: ১. ফেরেশতা, ২. শয়তান, ৩. মানুষ।
(*ফেরেশতারা সকলেই ভালো। আর যে ব্যক্তি কল্যাণ লাভ করে, সে ফেরেশতাদের দ্বারা আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়, আর যে ব্যক্তি মন্দ লাভ করে, সে ফেরেশতাদের দ্বারা অভিশপ্ত হয়।)
35. যে ব্যক্তি আদেশ পালন করে না, সে অবশ্যই আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়।
36. ধৈর্য ধরো, কারণ পৃথিবীটা নানা ধরণের দুর্যোগ এবং দুঃখকষ্টের সমাহার।
37. আল্লাহর স্মরণে একত্রিত হও, বিচ্ছিন্ন হয়ো না।
38. অনুতাপের ( তওবা) মাধ্যমে তোমার পাপ ধুয়ে ফেলো,আল্লাহর দরজা থেকে কখনও সরে যেও না।
39. কষ্টের পরে স্বস্তি (শান্তি ) আসা অপরিহার্য। কষ্টে হতাশ হবেন না।
40. আল্লাহ্ ও রাসূলের আনুগত্য করো, এবং ধৈর্য ধরো।
সংগৃহীত: আনোয়ার-ই-সোফিয়া/
তোহফা-ই-কাদ্রিয়াহ ।
Comments -