KeyOfIslam
Welcome To KeyOfIslam.com. KeyOfIslam is the platform to spread love and brotherhood among all people through the light of Prophet Mohammad(peace be upon him), the Final Messanger of Allah. Here you will get informations with precision.
Individual Articles
হাদীসের আলোকে হানাফী নামাজ
হাদীসের আলোকে হানাফী নামাজ মুফতী মজিবুর রহমান মানযারী, বীরভূম হুযূর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: صَلُّوا كَمَا رَأيْتُمُونِي أُصَلِّي অনুবাদ:- আমাকে তোমরা যেভাবে নামায পড়তে দেখেছ, ঠিক সেইভাবেই নামায পড়। হানাফী মাযহাব তথা ইমামে আযম রাদিয়াল্লাহু আনহুর অনুসরণকারীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উক্ত হাদীসের উপর আমল করেই নামায আদায় করে থাকে। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেরূপ ভাবে নামায আদায় করেছেন এবং যেরূপ ভাবে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন হানাফীরা সেই নিয়ম অনুযায়ী নামায আদায় করে। কিন্ত গুস্তাখে রাসূল, ফিতনা বাজ, নামধারী আহলে হাদীসরা জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলে যে, হানাফীরা যে নিয়মে নামায আদায় করে সেটা হাদীস বিরোধী নিয়ম। অথচ এটা একেবারেই মিথ্যা এবং বানোয়াট কথা। এ প্রসঙ্গে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করো হলো-   নামাজের শুরুতে কান পর্যন্ত হাত উত্তোলন করা عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ أَبْصَرَ النَّبِيَّ صلي الله عليه وسلم حِينَ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى كَانَتَا بِحِيَالِ مَنْكِبَيْهِ وَحَاذَى بِإِبْهَامَيْهِ أُذُنَيْهِ ثُمَّ كَبَّرَ ‏.‏ অনুবাদ:- হযরত আব্দুল জাববার বিন ওয়ায়িল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তাঁর পিতা নবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নামাজে দাঁড়িয়ে স্বীয় দু’ হাত কাঁধ পর্যন্ত এবং বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয় কর্ণদ্বয় পর্যন্ত উঠিয়ে তাকবীর বলতে দেখেছেন। (আবু দাউদ শরীফ হাদীস নং ৭২৪) উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, নামাজে কান পর্যন্ত হাত উত্তোলন করা নবী পাকের সুন্নাত। আলহামদুলিল্লাহ এই হাদীসের উপর আমল করার জন্যই আমরা কান পর্যন্ত দ'হাত উত্তোলন করি‌। এই মর্মে আরও হাদীস শরীফ বর্ণিত হয়েছে। যেমন- নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং ৮৯০, আবু দাউদ শরীফ পৃষ্ঠা নম্বর ১০৫. নাভীর নিচে হাত বাঁধা সুন্নাত حَدَّثَنَا: وَكِيعٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضَعَ يَمِينَهُ عَلَى شِمَالِهِ فِي الصَّلاَةِ تَحْتَ السُّرَّةِ.» অনুবাদ:-আমার নিকট ওকী বর্ণনা করেছেন। তিনি হযরত মুসা বিন উমাইর থেকে, তিনি হযরত আলক্বমা ইবনে ওয়াইল থেকে,তিনি তার পিতা ওয়াইল ইবনে হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসূল স্বল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দেখেছি, তিনি নামাজে তাঁর ডান হাতকে বাম হাতের উপর নাভীর নিচে রেখেছেন।(মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদিস নম্বর ৩৯৫৯) আল্লামা নববী বলেছেন উক্ত হাদিসের সনদ (সূত্র ) সহীহ্। এই মর্মে আরো অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে । যেমন- আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নম্বর ৭৫৬,৭৫৮. মুসনাদে আহমদ হাদীস নং ৮৭৫. ইমামের পিছনে ক্বেরাত না করার হাদীস عن جابر بن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال من صلى خلف الامام فان قراءة الامام له قراءة অনুবাদ:- হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী পাক স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যদি কেউ ইমামের পিছনে নামাজ পড়ে তাহলে নিশ্চয় ইমামের কেরাত পাঠ করা মানে মুক্তাদির পাঠ করা।(মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদ পৃষ্ঠা নম্বর ৯৮) এই মর্মে আরও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যেমন- আবু দাউদ শরীফ. হাদিস নম্বর ৬০৪,  ইবনে মাজাহ্ শরীফ হাদিস নম্বর ৮৪৬, নাসায়ী শরীফ হাদিস নম্বর ৯২২। আমীন আস্তে বলার হাদীস অনেকে উচ্চস্বরে আমিন বলে কিন্তু আমাদের হানাফী মাযহাবের মতে নিম্নস্বরে আমীন বলা হলো উত্তম। قال عطاء آمين دعاء অনুবাদ:-হযরত আত্বা বলেন আমীন হলো দুয়া।(বুখারী শরীফ পৃষ্ঠা নম্বর ১০৭) এখন দুয়া কিভাবে করতে হবে সেটি মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন ٱدۡعُوا۟ رَبَّكُمۡ تَضَرُّعࣰا وَخُفۡیَةًۚ إِنَّهُۥ لَا یُحِبُّ ٱلۡمُعۡتَدِینَ অনুবাদ:- স্বীয় প্রতিপালকের দরবারে দুয়া প্রার্থনা করো বিনীতভাবে এবং গোপনে। নিশ্চয়ই সীমা অতিক্রম কারীগণ আল্লাহ তায়ালার নিকট পছন্দনীয় নয়। এই আয়াত থেকে দিবালোকের ন্যায়  সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে দোয়া নিম্নস্বরে বলাটাই উত্তম। عن وائل بن حجر أنه صلى مع النبي صلى الله عليه وسلم- حين قال  غَیۡرِ ٱلۡمَغۡضُوبِ عَلَیۡهِمۡ وَلَا ٱلضَّاۤلِّینَ    قال آمين يخفض بها صوته অনুবাদ:- হযরত ওয়াইল বিন হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে উনি নবী পাক স্বল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে নামাজ আদায় করলেন তিনি যখন  غَیۡرِ ٱلۡمَغۡضُوبِ عَلَیۡهِمۡ وَلَا ٱلضَّاۤلِّینَ বললেন  তখন আমীন বললেন এবং এটা নিম্নস্বরে বললেন। ইমাম নববী আসারুস সুনান কিতাবে বলেছেন এর সনদটি সহীহ। নামাজে বার বার হাত উত্তোলন না করার হাদীস عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ أَلاَ أُصَلِّي بِكُمْ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ إِلاَّ فِي أَوَّلِ مَرَّةٍ অনুবাদ:-হযরত আলক্বমা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন একদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে বললেন আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহর রাসূল স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মত নামাজ পড়ে দেখাবো না? অতঃপর তিনি নামাজ পড়লেন এবং শুধুমাত্র একবার হাত উত্তোলন করলেন।(তিরমিযী শরিফ হাদিস নম্বর ২৫৭, আবু দাউদ শরীফ হাদিস নম্বর 748, নাসায়ী শরীফ হাদিস নম্বর ১০৫৯) এই মর্মে আরও একটি হাদীস শরীফ বর্ণিত হয়েছে। সেটি লক্ষ্য করুন عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ مَا لِي أَرَاكُمْ رَافِعِي أَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ اسْكُنُوا فِي الصَّلاَةِ অনুবাদ:-জাবির ইবনে সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের হাত উঠাতে দেখি কেন? মনে হয় যেন তা দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। নামাজে স্থির থাকো।(মুসলিম শরীফ প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা নম্বর ১৮১ হাদিস নম্বর ৮৫৪) সেজদায় যাবার সময় প্রথমে হাঁটু মাটিতে লাগবে তারপর হাত নাক এবং কপাল হযরত আলক্বমা এবং আসওয়াদ বর্ণনা করেন, আমাদের হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নামাজ স্মরণ  আছে। خر بعد ركوعه على ركبتيه كما يخر البعير ،وضع ركبتيه قبل يديه. অর্থাৎ:- তিনি রুকুর পর হাঁটুর ওপর ভর করে ঝুঁকতেন যেমনভাবে উট ঝুঁকে। তিনি হাঁটুকে হাতের পূর্বে জমিনে রাখতেন। (তাহাবী শরীফ প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা নম্বর ১৮২, হাদীস নং ১৪১৯ আসারুস সুনান পৃষ্ঠা নম্বর ১৬৯ হাদীস নং ৪৩২) উপরোক্ত আলোচনা থেকে দিবালকের ন্যায় প্রতিয়মান হল যে, হানাফীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র হাদীস অনুযায়ী নামায আদায় করে। সুতরাং নামধারী আহলে হাদীসদের কথা একেবারেই মিথ্যা ও বানোয়াট। আল্লাহ তাআলা সকলকে এই ফিতনা থেকে দূরে রাখেন, আমীন।

Comments -

Most Read Articles