আসুন, তাসবীহ ও দুয়া সমূহের অর্থ বুঝে নামায পাঠ করি!
একাগ্রচিত্তে নামায পাঠ করার জন্য নামাযের তাসবীহ ও দুয়া সমূহের অর্থ বুঝা বাঞ্ছনীয়। হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন যে, নামাযে অন্যমনস্কতা দূরীকরণের অন্যতম উপায় হল নামাযের ভিতর যা পাঠ করা হয় নফসকে বলপূর্বক তা বুঝতে দেওয়া এবং অন্য চিন্তা ত্যাগপূর্বক তাতে লিপ্ত থাকা। (এহয়া উল উলুমুদ্দিন)
নিম্নে নামাযের তাসবীহ ও দুয়া সমূহের অর্থ প্রদান করা হল-(১) জায়নামাযের দুয়া সুন্নি নিয়াত:- ইন্নি ওয়াজ্জাহাতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযি ফাত্বারাস্সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্বা হানিফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। অর্থ:- নিশ্চয় আমি তার দিকে মুখ করলাম, যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং বাস্তব বিকৃত আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।
(২) নামাযের আরবীতে নিয়ত নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা (২ রাকাত হলে) রাকাআতাই সালাতিল, (৩ রাকাত হলে) সালাসা রাকাআতাই সালাতিল, (৪ রাকাত হলে) আরবায়া রাকাআতাই সালাতিল, (ওয়াক্তের নাম) ফাজরি/জুহরি/আসরি/মাগরিবী/এশার/জুমুআতি (যে নামায তার নাম) ফরয হলে ফারদ্বুল্লাহি/ওয়াজিব হলে ওয়াজিবুল্লাহি/সুন্নাত হলে সুন্নাতু রসূলিল্লাহি/নফল হলে নাফলি। (সমস্ত নামাযে) তাআলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
বাংলা নিয়ত আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ক্বিবলা মুখী হয়ে ফরযের/যোহরের/আসরের/মাগরিবের/এশার/জুমুআর/বিতরের/তারাবীহ/তাহাজ্জুদের/ (অথবা যে নামায হয় তার নাম) ২/৩/৪ রাকাত (যে কয় রাকাত নামায তার নাম) ফরয/ওয়াজিব/সুন্নাত/নফল নামায পড়ার নিয়ত করলাম, আল্লাহু আকবার।
(৩) সানা ও নাভীর নিচে হাত বাধার পর এই দুয়া পড়তে হয়। উচ্চারণ :- সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়াবিহামদিকা ওয়াতাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা। অর্থ:- হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার মহিমা বর্ণনা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মাহাত্ম্য সর্বোচ্চে এবং আপনি ভিন্ন কোনো উপাস্য ইবাদতের যোগ্য নয়।
(৪) তাউয :- আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম। অর্থ :- বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।(৫) তাসমিয়া :- বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। অর্থ:- আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি পরম দাতা ও দয়ালু।
(৬) রুকুর তাসবীহ :- সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম। অর্থ:- মহান প্রতিপালের পবিত্রতা ও মহাত্ম ঘোষণা করছি।
(৭) রুকু থেকে দাঁড়ানোর সময় পড়তে হয়- সামি আল্লাহুলিমান হামিদাহ। অর্থ:- প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শুনেছেন।
(৮) তাহমীদ ও রুকু থেকে দাঁড়িয়ে পড়তে হয় - রব্বানা লাকাল হামদ। অর্থ:- হে আমাদের প্রভু, সমস্ত প্রশংসা আপনারই।
(৯) সাজাদার তাসবীহ :- সুবহানা রাব্বিয়াল আলা। অর্থ:- আমার প্রতিপালক যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ, তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
(১০) তাশাহুদ বা আত্তাহিয়্যাতু :- আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াসস্বলাওয়াতু ওয়াত্ত্বায়্যিবাতু। আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহাননাবিয়্যু ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিসস্বলিহীন। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। অর্থ:- আমাদের সকল সম্ভাষণ, উপাসনা এবং পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। হে নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং আপনার উপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল।
(১১) দরূদ শরীফ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। অর্থ:- হে আল্লাহ! দয়া ও রহমত বর্ষণ করুন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন দয়া ও রহমত বর্ষণ করেছিলেন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ, বরকত অবতীর্ণ করুন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন বরকত অবতীর্ণ করেছিলেন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত।
(১২) দুয়ায়ে মাসূরা:- আল্লাহুম্মা ইন্নি জ্বালামতু নাফসি জুলমান কাসীরাঁও ওয়া লা ইয়াগফিরুযযুনূবা ইল্লা আন্তা, ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা ওয়ার হামনি ইন্নাকা আন্তাল গাফুরুর রাহীম। অর্থ:- হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আমার নিজের উপর খুব অত্যাচার করেছি এবং আপনি ব্যতীত অন্য কোনো আমার অপরাধ ক্ষমা করতে পারে না। সুতরাং হে আল্লাহ! অনুগ্রহ পূর্বক আমার অপরাধ ক্ষমা করে দিন এবং আমার প্রতি সহায় হোন। নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও করুণাময়।
(১৩) দুয়ায়ে কুনুত:- বিতরের নামাযে ৩য় রাকাতে সূরা ফাতিহার ও অন্য সূরা পড়ার পর এই দুয়া পাঠ করতে হয়। উচ্চারণ:- আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা ওয়া নাসতাগফিরুকা, ওয়া নুমিনুবিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনি আলাইকাল খায়ের। ওয়া নাশকুরুকা, ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ ওয়া নাতরুকু মাই ইয়াফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা নাবুদু ওয়ালাকা নুসাল্লি ওয়া নাসজুদু ওয়া ইলাইকা নাসআ, ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা আযাবাকা ইন্না আযাবাকা বিল কুফ্ফারি মুল হিক। অর্থ:- হে Allah! আমরা আপনার নিকট সাহায্য চাই এবং আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আপনার প্রতি ঈমান এনেছি। আমরা কেবলমাত্র আপনার উপরই ভরসা করি এবং আপনার গুণাবলীর প্রশংসা করি এবং আমরা আপনার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি এবং আমরা আপনাকে অবিশ্বাস করি না। যারা আপনার অবাধ্য, তাদের আমরা দূরে রাখি এবং পরিত্যাগ করি। কেবলমাত্র আপনার জন্য নামায পড়ি এবং সাজদা করি। আমরা আপনার দিকে দ্রুত ধাবিত হই এবং আপনার অনুগ্রহ কামনা করি। আপনার শাস্তিকে আমরা ভয় করি। নিশ্চয়ই আপনার শাস্তি কাফিরদের জন্য অবধারিত।
লেখকের নাম:- মুফতি মুহাম্মাদ আবুল কালাম আজাদ কাদেরী
শিক্ষক, গবেষক ও সমাজ ও ধর্ম বিষয়ক
বাবলা, মোথাবাড়ি, মালদা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
(Mob 8001605515)
Comments -